মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
চলছে বৈশাখ মাস, মাঠে মাঠে বোরো ধান কাটার ধূম পড়েছে। কিন্তু একদিকে শ্রমিক সংকট, তারপর বৈরী আবহাওয়ার কারনে আকাশে কখনো কালো মেঘ। মাঝে মাঝে ঝড়-বৃষ্টি, আবার ঝকঝকে পরিষ্কার। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সংকট ও অনুকূল আবহাওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছেন কৃষক। আর শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ধান (ফসল) কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বোরো চাষীরা। এক প্রকার শ্রমিক সংকটে বৈরী আবহাওয়ার সময় মিলিয়ে চাষীদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। তারপরেও এক মণ ধানের দামেই মিলছে না একজন শ্রমিক। উপজেলা ব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা কেউ ধান কাটছে, কেউ বাঁধছে। আবার কেউ পরিবহন করে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেকে আবার ধান কেটে মাঠেই সারছেন মাড়াই এর কাজ। এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি আছে নারীরাও। বৈরী আবহাওয়া বেশি থাকায় কাজের জন্য সকাল ও বিকাল টাইমকেই বেছে নিচ্ছে কৃষকরা। উপজেলার বালিধা গ্রামের তরুন কৃষক হাসিবুর রহমান জানান, আড়াই বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি, পোকাই কেটে দেওয়ার পরও ফসল অনেক ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিকের ধান কাটার যে মূল্য তাতে এক মণ ধানেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণে ধান ঘরে তুলতে মোট চাষকৃত ধানের এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের পিছনে ব্যয় হচ্ছে। দত্তকোনা গ্রামের কৃষক মিন্টু জানান, এই বছরে বোরো ধানের মৌসুমে ২ একর জমিতে ধান রোপন করেছি। পরিবেশ অনুকুলে থাকলে দায় দেনা পরিশোধ করে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি নিজের আর্থিক যোগান দিতে সক্ষম হব। এছাড়াও হাসাডাঙ্গা গ্রামের আরশাফ আলী ও আমিনপুর গ্রামের মশিয়ার রহমানসহ আরো অনেক প্রান্তিক চাষীর সাথে কথা বলে জানাযায় গত বছর শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ছিলো ৭/৮ শত টাকা। কিন্তু এ বছর ১১/১২ শত টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরেও এবার কৃষকরা ধানের দর বাজার মূল্য ভালো পাচ্ছে না। এলাকার বোরো ধান চাষীরা শ্রমিক সংকটের কারনে বেশী দামে শ্রমিকের মজুরী দিয়ে ফসল ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছে। যার কারনে কৃষকরা এবার বোরো ধান চাষ করে অনেকেই ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার জানিয়েছেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রাও একই ছিল। সব কিছু অনুকুলে থাকলে প্রায় ১৬ হাজার ২শ’ ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তারপরেও শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার আশংকায় দ্রুত কৃষকের ধান ঘরে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
