হোম খুলনাযশোর মনিরামপুরে নদীর মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ:পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন, থানায় অভিযোগ

মনিরামপুরে নদীর মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ:পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন, থানায় অভিযোগ

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 140 ভিউজ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের মনিরামপুরে হরিহর নদীর মাটি নিলামে বিক্রির অতিরিক্ত(নেগোসিয়েশন) ১০ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কন্দ্রে করে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত থানায় শনিবার কাউন্টার ৫ টি অভিযোগ করেছে। তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, হরিহরনদী খননের পর নদীর দুই তীরের অতিরিক্ত মাটি নিলাম আহ্বান করা হয়। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার চারটি লটে মোট ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি বিক্রির প্রকাশ্য নিলাম দুপুর থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শেষ হয়। এ নিলামে বিশেষ করে জামায়াত এবং বিএনপির মাটি ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। নিলামে চারটি লটে সর্বচ্চো দরদাতা হিসেবে টেন্ডার(মাটি) পান রবিউল ইসলাম বাধাঘাটা ব্রিজের নিকট পাঁচ লাখ টাকায়, রাজগঞ্জ ব্রিজের নিকট জাহাঙ্গীর বিশ^াস ৭৭ হাজার টাকায় , বাকোশপোলে সাইফুল ইসলাম ১৯ লাখ ৬১ হাজার ২১৬ টাকায় এবং নিমতলা ঘাটে শরিফুজ্জামান পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৭২৬ টাকায় মাটির টেন্ডার পান।
সূত্র জানায় রাত সাড়ে সাতটার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি এবং জামায়াতের মাটি ব্যবসায়ীরা ওই মাটি নিজেদের মধ্যে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত দশ লাখ টাকা লাভে বিক্রি করেন। এ সময় সেখানে জামায়াত এবং বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মীর উপস্থিতি হয়। সূত্র জানায় লাভের ১০ লাখ টাকা জামায়াত এবং বিএনপির কতিপয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত কর্মীদের মাঝে বিতরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে টাকা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তখনও সেখানে দুই থেকে তিন’শ লোক বাকী থাকে টাকা নিতে। ফলে বঞ্চিতরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত আটটার দিকে তরকারি বাজারে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন মাপিটের শিকার হন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এবং দক্ষিন মাথায় জামায়াতের দলিয় কার্যালয়ের সামনে জামায়াত-বিএনপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সহ তুুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী আহসান হাবিব লিটন, নায়েবে আমির লিয়াকত আলী, জেলা সুরা সদস্য মহিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুন, আসাদুজ্জামান সবুজসহ অন্তত: ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। তবে এর মধ্যে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে যশোর ২৫০ শয্য জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সহকারি সেক্রেটারী আহসান হাবিব লিটন জানান, তিনি ও মহিউল ইসলাম তাদের দলিয় কার্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় প্রথম যখম হয় ছাত্র দল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুন। পরবর্তিতে দু পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এ দিকে সংঘর্ষের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারি অধ্যাপক ফজলুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক দোষিদের গ্রেফতার করতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন। অপরদিকে শুক্রবার বিকেলে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি। পৌরশহরে মিছিল শেষে দক্ষিনমাথায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক খান শফিয়ার রহমান, জাহাঙ্গীর বিশ^াস, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল গাজী, সাইফুল ইসলাাম প্রমুখ। তবে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)আবু সাঈদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার বিকেলে উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন বাদি হয়ে বিএনপির ১৬ জন এবং নায়েবে আমির লিয়াকত আলী বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ দুইটি অভিযোগ দিয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান সবুজ, সালিমুন হোসেন ও নাজিম উদ্দিন বাদি হয়ে জামায়াতের অন্তত: ৫০ জনের বিরুদ্ধে তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওসি জানান, বিএনপি-জামায়াতের মোট ৫ টি লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন