নড়াইল অফিস :
নড়াইলের কালিয়ায় বৃদ্ধা ছালেহা বেগমকে (৭৫) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের দুই পুত্রবধু আদলতে সেই রাতের ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। নিহত আরিফ হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করতেই মাকে পুড়িয়ে মেরেছে আরিফ হত্যা মামলার বাদিসহ তার পরিবারের লোকজন বলে আদালতে ওই জবানবন্দিতে প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুই পুত্রবধুর আদালতে দেয়া জবানবন্দির ঘটনা শুক্রবার বিকালে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টিসহ আলোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। ওই জবানবন্দির মধ্য দিয়ে বৃদ্ধা ছালেহা বেগম হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
কালিয়া থানা পুলিশ জানায়, গত ২২মে রাতে উপজেলার জামরিলডাঙ্গা গ্রামের আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধা ছালেহা বেগমকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নিহতের দুই পুত্রবধু নারগিস বেগম ও কুলসুম বেগম ঘটনার বিষয়ে নড়াইল আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজ্যিষ্ট্রেট মো.মোরশেদুল আলমের আদালতে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) ও শুক্রবার (৪ জুন) ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
জবানবন্দিতে তারা বলেছে প্রায় ৮ মাস পূর্বে গ্রাম্য দলাদলির কারনে কুলসুমের স্বামী আরিফ খন্দকারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। আরিফ হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে তাদের পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। তার জের ধরে তাদের বংশের লোকদের সাথে আরিফ হত্যা মামলার আসামিদের মারামারি হয়।
ওই মারামারির ঘটনায় আরিফ হত্যা মামলার বাদিসহ তার লোকজনের নামে আসামিরা মামলা দেয়। এরপর গত ২২মে রাত ১ টার দিকে রাশেদ, মিরাজ ও ইরোপসহ অজ্ঞাত নামা ২/৩ জন তাদের শ্বাশুড়ীর বিছানায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে রাশেদকে আগুন জ্বালতে দেখেছে নারগিছ বলে জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে তার স্বামী আরিফ খন্দকারকে সন্ত্রাসীরা নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় নিহত আরিফের ভাই ইরুপ খন্দকার বাদি হয়ে একই গ্রামের আকছির মোল্যাসহ ২৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে তাদের পরিবার ও সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানিসহ হুমকি দিয়ে আসছিল।
ওই সময় আরিফ হত্যা মামলার আসামী রাহুল মোল্যাকে বাদির সমর্থকরা মারপিট করলে গত ২০মে আহত রাহুলের মা ঝর্না বেগম বাদি হয়ে ইরুপ খন্দকারসহ ৮ জনের নামে কালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এরপরই ঘটেছে বৃদ্ধা ছালেহা বেগমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা।
এ ঘটনায়, নিহতের মেয়ে মিনি বেগম বাদি হয়ে গত ২৫মে আরিফ হত্যা মামলার আসামী আকসির ও মনিরুল মোল্যাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা ৬-৭ জনকে আসামী করে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কালিয়া থানার ওসি অপারেশন ও ছালেহা হত্য মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আমানউল্লাহ বারি বলেছেন, নিহতের দুই পুত্র বধু নারগিস বেগম ও কুলসুম বেগম স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী অরিফ হত্যা মামলার আসামী রাহুলের মা ঝর্না বেগমের দায়েরকৃত মামলার পাল্টা মামলা দায়ের করতেই ইরোপ খন্দকার তার মাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বলে তিমি মনে করেন।
কালিয়া থানার ওসি সেখ কনি মিয়া বলেছেন, নিহত ছালেহার দুই পুত্রবধুর আদালতে দেয়া জবানবন্দি ও স্বাক্ষীদের বক্তব্য পর্যারোচনা করা হচ্ছে। মূল হত্যাকারিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
