হোম অন্যান্যসারাদেশ “কোরআন শপথ করে কাউকে কিছু না জানানোর তাগিদ” কিশোরগঞ্জে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বলাৎকার, অবশেষে মামলা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর আদর্শ নূরানী হাফিজয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার মোহতারিম ও স্থানীয় হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও স্থানীয় হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী (৩৫) কুলিয়ারচর উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
জানা যায়, ছোট ছেলে কয়েকদিন ধরে মাদ্রাসায় যেতে না চাইলে পরিবারের সদস্য মাদ্রাসায় যেতে মারধর করে। পরেও সে মাদ্রাসায় যেতে চায়না। এক পর্যায়ে পরিবারের চাপে ওই শিশু ছেলে মাকে নিয়ে মাদ্রাসার নাম করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের কাছে মারধরের অভিযোগ করবে এমন ভয়ে মা ছেলেকে থানার সামনে থেকে বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে শিশুটি তার মাকে মাদ্রাসা কমিটির কাছে নিয়ে যেতে বলে। মা তখন মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সাত্তার মাস্টারের কাছে নিয়ে যায়। সভাপতির কাছে ছেলেটি সব ঘটনা বলে। সভাপতিকেও বলে তাকে নিয়ে থানায় যাওয়ার জন্য। এ ঘটনার পর বিষয়টি থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয় ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। শিশুটি বলে, মাদ্রাসার ইয়াকুব আলী হুজুর তাকে রাত ২টার দিকে পর পর দুই দিন ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলাৎকার করে। বলাৎকারের পর কোরআন ছুঁয়ে কাউকে কিছু না জানানোর জন্য শপথ করান হুজুর। জানা যায়, হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী স্থানীয় হেফাজতের সক্রিয় নেতা। অভিযুক্ত হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম সুলতান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকারের ঘটনায় হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন