মোংলা প্রতিনিধি :
নিশি আক্তার (২৪)। তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষ। মাকে নিয়ে থাকতেন সরকারি জায়গায় চায়ের দোকানে। মা চা বিক্রি আর সে এদিক সেদিক করে কোনরকম জীবন চলে যায় তাদের। দীর্ঘদিন তাদের আক্ষেপ নিজভূমে কবে থাকবেন?
তবে এখন সেই দুঃখ নেই। এক আকাশের নিচে স্থায়ী ঠাঁই হয়েছে নিশিদের। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে দারুন খুশি সে। আবেগ আপ্লূত হয়ে ধন্যবাদ দিতে ভুলেন নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। মোংলা উপজেলার নারকেলতলা আবাসন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের নিশি আক্তার।

দেশের অন্যকোথাও এমন ঘটনা হয়েছে কিনা, তা জানা গেলেও বাগেরহাট জেলায় এই প্রথম। এ তথ্য জানিয়ে মোংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার রবিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর দেয়া গৃহ ও ভূমিহীনদের আনুষ্ঠানিক ঘরের চাবি হস্তান্তর শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মোংলা উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিতে অনেক গৃহ ও ভূমিহীনরা আবেদন করেন। এর মধ্যে একজনই তৃতীয় লিঙ্গের আবেদন পেয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নিশি আক্তারকে ঘর দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করি। তবে এর আগে তিনি আসলে ঘর পাওয়ার যোগ্য কিনা সেটি যাচাইও করেছি” বলে জানান ইউএনও কমলেশ মজুমদার।
এদিকে রবিবার সরেজমিনে নিশির নতুন ঘরে গেলে দেখা যায় তার মা সুফিয়া বেগম (৬০) কে নিয়ে উঠেছেন তিনি। নতুন ঘর পেয়ে দারুন খুশি তারা। জানান, “আমাদের থাকার জায়গা ছিলনা, স্থায়ী থাকার জায়গা হলো এখন, আমাদেরমত মানুষকে মূল্যায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই”।
তিন বছর আগে বাবা ইমান শেখ মারা যাওয়া নিশি আক্তারের আরো পাঁচ ভাই তাদের সংসার নিয়ে আলাদা থাকেন। কুমারখালির টি এ ফারুক স্কুলে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, তখন তার নাম ছিল জাবেদ শেখ। এরপর স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গের সাথে জড়িয়ে বাচ্চাদের নোচে গেয়ে নিজের জীবনকে বদলে হয়ে যান নিশি আক্তার।
এদিকে মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়েছেন ৫০ জন গৃহ ও ভূমিহীন পরিবার। রবিবার (২০ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এই ঘর হস্তান্তর করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার এই ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশিসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতারা।
