মাগুরা অফিস :
মাগুরায় মসজিদে নামাজে দাঁড়ানোর মুহূর্তে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে পাখি মাস্টার (৫৫) নামে এক শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।
শনিবার রাত ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকালে জেলার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া গ্রামের উওর-পূর্বপাড়া মসজিদের ভিতর।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ (২০ জুন) রবিবার তিনজনকে আটক করেছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ। নিহত আলাউদ্দিন পলাশবাড়ীয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হক মোল্যার ছেলে। সে পলাশবাড়ীয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছু আগে আলাউদ্দিন তার বাড়ির সামনে নিজের পুকুরে পাড় মাটি দিয়ে উঁচু করেছিল। পুকুরটির উত্তর পাশে প্রতিবেশী মৃত মুন্নাফ মোল্যার ছেলে বাঁশি মোল্যার বাড়ি। পুকুরের পাড় মাটি দিয়ে উঁচু করার কারণে বাঁশি মোল্যার বাড়িতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সরে যেতে পারছিল না। এ নিয়ে বেশকিছু ধরে আলাউদ্দিনের সাথে বাঁশি মোল্যার বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার বিকালে আলাউদ্দিন আসরের নামাজ আদায় করতে বাড়ির পাশে মসজিদে যায়। মসজিদে একা নামাজ আদায় করতে এসেছে জানতে পেরে বাঁশি মোল্যাসহ তার লোকজন মসজিদে ঢুকে নামাজে দাঁডানোর মুহূর্তে আলাউদ্দিনকে পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
এ সময় আলাউদ্দিনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসলে হামলাকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। গুরুত্বর জখম অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১১টার দিকে আলাউদ্দিন মারা যান।
আলাউদ্দিনের ছেলে রুবেল জানান, তার বাবার সাথে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ বাঁশি মোল্যার নানা বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার সময় বাবাকে মসজিদে একা পেয়ে বাঁশি মোল্যা ও তাঁর লোকজন হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করেছে। রুবেল তার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারক বিশ্বাস জানান, এ বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের কেই লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে ঘঁনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেল, কামরুল ও সোহেল নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
