আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনির কাকবাসিয়ায় শালিশ বিচার অমান্য করে প্রতিপক্ষ বসতবাড়ীর জমিজমা জবর দখল নেওয়ার চেষ্টায় বাঁধা দেওয়ায় বেপোরোয়া মারপিটে স্বামী স্ত্রীসহ ৪জন গুরুতর জখম হয়েছে। জখমীদের মধ্যে স্বামী শহীদুজ্জামানের অবস্থা আশাংকা জনক। সে তার ডান চোখটি হারাতে বসেছে বলে জানাগেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া আহতদের বাড়ীতে। এ লিখিত এজাহার ও হাসপাতালে ভর্তি আহতদের পরিবার সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার আনুলিয়া গ্রামের কাকবাসিয়া গ্রামের মৃত. মজিদ সানার পুত্র শহীদুজ্জামান গংদের বসতবাড়ীর নিয়ে পার্শ্ববর্তী আইব আলী গাজীর পুত্র বিল্লাল গংদের বিরোধ চলে আসছিলো।
এ বিষয়টি নিয়ে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও থানাসহ বিভিন্ন মহলে কয়েকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। এ নিয়ে সর্বশেষ থানা পুলিশের মাধ্যমে মাপ জরিপান্তে উভয়ের জমি দখল বুঝে নেয়া স্বার্থে উভয়ই মিমাংসা পত্রে সহি করে। সে মোতাবেক স্থানীয় গন্যমান্য আনুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এটিএমসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিনের মাধ্যমে মাপ জরিপ কার্য পরিচালনা করে দুপুর ২টার দিকে প্রাথমিকভাবে সমস্যা সমাধান করা হয়। এতে কোন পক্ষ আপত্তি না করে শালিস ও মাপজরীপ মেনে নেয়।
শালিস অনুযায়ী ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৃত. মজিদ সানার পুত্র শহিদুজ্জামান তার বসত ভেটায় ঘেরা-বেড়ার কাজ করতে থাকলে প্রতিপক্ষের হাবিব খাঁর পুত্র এলাকার ত্রাস হেলাল খাঁর নেতৃত্বে আইযুব গাজীর পুত্র বিল্লাল গাজী , আলমগীর গাজী, জাহাঙ্গীর গাজী ,নাজমুল হোসেন ভোলাসহ তাদের পরিবারের লোকজন চাপাতি , দা, শাবল, রড,লাঠি-সোটা নিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করে। বাঁধা উপেক্ষা করে শহিদুজ্জামান প্রতিপক্ষদের বলে শালিস অনুযায়ী আমার যায়গায় আমি ঘেরাবেড়া দিচ্ছি তোমাদের যায়গায় আমি ঘেরাবেড়া দিচ্ছি না এ কথা বলা মাত্রই তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার এক পর্যায় বলে হামামজাদা এভাবে কথা শুনবে না ওকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে বলে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপতি দিয়ে শহীদুজ্জামানের মাথায় কোপ মারে গুরুতর জখম করে।
এর পরেও মৃত্যু নিশ্চিত করতে এ সময় অন্যান্যরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে পিটাতে থাকলে তার ডাকচিৎকারে তার স্ত্রী হালিমা খাতুন (২২), ভাই সোবহান (২৭) চাচী রহিমা খাতুন (৩৬) ছুটে এসে তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষরা তাদেরকেও এলোপাড়ীভাবে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর করে। এ সময় তারা ঘেরাবেড়া কাটাসহ বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বাড়ীর আসবাব পত্র ভাংচুর ও স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে। আহতদের গ্রামবাসী উদ্ধার করে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে শহীদুজ্জামানের অবস্থা আশাংকাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা নিয়ে যাওয়ার জন্য আশাশুনি হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিয়ে যেতে বলেছেন।
প্রতিপক্ষ হেলাল ও বিল্লাল গং’রা একতরফা শহীদুজ্জামান গংদের বাড়ীতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করাসহ স্বর্ণালঙ্কার অন্যান্য জিনিশ পত্র লুটপাট ও পরিবারের নারী পুরুষদের মারপিট গুরুতর জখম করে। মারপিট কারীরা এঘটনা থেকে বাঁচতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে তড়িঘড়ি করে বাাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখে যারাই ৯৯৯নম্বরে ফোন করেছে তারা আহত শহীদুজ্জামান গংদের বাড়ীতে হামলা চালিয়েছে। এলাকাবাসী ও আহত হালিমা খাতুন জানায় হামলা ও মারপিটকারীরা এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিল্লালের গাজীর অন্তসত্ত্বা স্ত্রী জোসনা খাতুন, তার স্বামীসহ ২/৩ জনের মারপিট করে আহত করা সহ তাদের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে মালামাল ভাংচুর করা হয়েছে এমন কথা উল্লেখ করে আনুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শালিসকারী এটিএমকে জড়িয়ে আরও কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী ও মান সম্মান করার চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে আহত শহীদুজ্জামানের স্ত্রী হালিমা খাতুন বাদী হয়ে মারপিটকারীদের আসামী করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিলো। এব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি গোলাম কবিরের সাথে সাংবাদিকদের পক্ষে কথা বলা হলে তিনি বলেন, পাল্টা দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে কোন পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। তদন্ত চলছে অপরাধ প্রমানিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহন করা হবে বলে ওসি গোলাম কবির জানান। প্রতিপক্ষ হেলাল খাঁ ঘটনা অস্বিকার করে বলেন শহীদুজ্জামান গংরা আমাদেরকে আমাদেরকে মারপিট করেছে। এ বিসয় হামলা ও মারপিটকারী হেলাল ,বিল্লাল গংদে’র অবিলম্বে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক গ্রেফতারের জোর দাবী জানিয়ে পুলিশ প্রমাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী ও আহদের পরিবার ।
