হোম খুলনানড়াইল অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 40 ভিউজ

নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইলের লোহাগড়ায় চিহ্নিত ভূমিদস্যু, ভূমি জালিয়াত অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন গণস্বাক্ষর সমাবেশ করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। গতকাল সকাল ১০টায় লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ গেটের সামনের প্রধান সড়কে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে কয়েকশমানুষ অংশ নেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রশাসন বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের চিহ্নিত ভূমিদস্যু মো: শাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। লক্ষ্মীপাশা রামপুর মৌজাতেই তার ৪টি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। চক্রের অন্যতম হোতা মো: শাহজাহান কুটি নামেবেনামে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

ছাড়া লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক জাহিদ হোসেন তার সহযোগীরা ১৯৮৩ সালের একটি দেওয়ানি মামলার (নং৬৯০/১৯৮৩) ভুয়া জাল ডিক্রি তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন। এই জালিয়াতির নম্বর বাদী হলেন জাহিদের বোনজামাই এস.এম খাইরুল হাসান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লক্ষ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস। তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা ব্রিটিশ আমল থেকে যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছি, এই জালিয়াত চক্র ভুয়া ডিক্রি দেখিয়ে তা স্থায়ীভাবে দখলের চেষ্টা করছে। এই চক্রের মূল গডফাদার আশ্রয়দাতা হলেন লক্ষ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা দিদার এলাহী সজিব।

বক্তারা জানান, প্রভাবশালী সজিব নিজের পেশীশক্তি খাটিয়ে এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে সরকারি রাস্তার ওপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। এর ফলে ওই এলাকার অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর আগে প্রশাসন এবং নড়াইল আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ওই অবৈধ প্রাচীর ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হলেও, প্রভাবশালী এই চক্রের বাধার মুখে তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে চরম অনিশ্চয়তা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সংখ্যালঘুরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুর নজরুল, বিএনপি নেতা মো: আনিসুর রহমান কামাল, সৈয়দ শাহ আলম, ভুক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাস এবং এস.এম ইমাম আলী। বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাম্মী কায়সার স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ভূমি জালিয়াত বা আইন অমান্যকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন