নড়াইল প্রতিনিধি:
ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা প্রণয়নে অসাবধানতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে নড়াইল–২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার কারণে আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা গত ২৬ জুন থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের হিসাব শাখা থেকে অনুমোদিত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার একটি অনুদান তালিকায় সংসদ সদস্যের কন্যার নাম অসাবধানতাবশত দুই জায়গায় (একটিতে পিতার নাম মো. বাচ্চু এবং অন্যটিতে মো. আতাউর) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার জরুরি দায়িত্বটি তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সম্পূর্ণ অগোচরে এবং অসাবধানতাবশত পিএস এই তালিকাটি প্রস্তুত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য এই অনুদানের টাকা গ্রহণ করার প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবীর জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পূর্বের অনুমোদিত তালিকার বাইরে নতুন কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে কোনো নির্ধারিত ব্যক্তি অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।
সংসদ সদস্যের এমন দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ ফেরত দেওয়ার সদিচ্ছাকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো বলে তারা মনে করছেন।#
