হোম খুলনাসাতক্ষীরা সাতক্ষীরায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও অনলাইন হয়রানী প্রতিরোধে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও অনলাইন হয়রানী প্রতিরোধে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 38 ভিউজ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সাতক্ষীরায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও অনলাইন হয়রানী প্রতিরোধে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (০৬ জুলাই-২০২৬) সকাল ১০ টায় সদর উপজেলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় যুব-নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরনে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে এডভোকেসি  সভায় সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী, শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা অর্ণব দত্ত।
জনাব, মো: জাহারুল ইসলাম, তথ্য অফিসার, জেলা তথ্য অফিস, সাতক্ষীরা।
জনাব মো; আবুল হোসেন
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
জনাব
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেসন সেল, সাতক্ষীরা।
জনাব
শিশু ও নারী নির্যাতন সেল, সাতক্ষীরা থানা।
জনাব ফাতেমা জোহরা, প্রোগ্রাম অফিসার, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা।
জনাব মাওলানা শেখ মাহবুবুর রহমান, সভাপতি, জেলা ঈমাম সমিতি ।
জনাব নুরুল হুদা, প্যানেল চেয়ারম্যান, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়ন।
জনাব শিবপদ গাইন, অধ্যক্ষ, গাভা আইডিয়াল কলেজ,
জনাব আব্দুল হাই সিদ্দিক, ওসিসি, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল
জনাব মাধব চন্দ্র দত্ত, নির্বাহী পরিচালক, স্বদেশ।
জনাব, এম কামরুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি, এটিএন নিউজ।
জনাব আসাদুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি, বাংলাভিশন।
জনাব ফয়জুল হক বাবু, জেলা প্রতিনিধি, মাই টিভি
জনাব এডভোকেট বিল্পব হোসেন, জজকোর্ট সাতক্ষীরা
জনাব অনামী কৃষ্ণ মন্ডল, প্রধান শিক্ষক, দ্যা পোল স্টার পৌর হাইস্কুল
জনাব মো: আজিজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক, কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
জনাব মো: আব্দুল মালেক গাজী, প্রধান শিক্ষক, নবারুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
জনাব মো: রবিউল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক, সাতক্ষীরা পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
জনাব মো: সাকিবুর রহমান বাবলা, সদস্য, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সাতক্ষীরা।
জনাব শেখ মাহবুবুল হক, পরিচালক, সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিম।
উক্ত এডভোকেসিতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী, শ্যামল কুমার বিশ^াস। প্রকল্পের কার্যক্রম ও প্রোগ্রামের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জনাব মো: তহিদুজ্জামান (তহিদ)।
সাতক্ষীরায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও অনলাইন হয়রানী প্রতিরোধে বিষয়ে  প্রতিবেদন  উপস্থাপনা করেন সাকিব হোসেন।
বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন মেসেজিং, ভিডিও শেয়ারিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাাটফর্ম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এসব প্ল্যাাটফর্ম নারীদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি নতুন ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির ক্ষেত্র ও তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানবাধিকারগত সমস্যা। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিক সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।  সচেতনতা, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল সহিংসতা কমানো সম্ভব।
এডভোকেসির উদ্দেশ্য ছিল তরুণী, কিশোরী ও কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, সাইবার হয়রানি, ডিজিটাল অধিকার এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ডিজিটাল জগতে নারী ও তরুণ-তরুণীদের সম্মুখীন হওয়া অভিজ্ঞতা, প্রতিবন্ধকতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ তৈরি করা এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশের জন্য যুব-নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা। অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলার জন্য যুব গোষ্ঠী, পরিষেবা প্রদানকারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে রেফারেল, সহায়তা এবং সমন্বয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সাথে তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে উন্নত প্রতিরোধ, অভিযোগ ও  সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
সুপারিশ/প্রস্তাবনা ছিল,
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা শিক্ষা সম্প্রসারণ:
বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অধিকার, অনলাইন গোপনীয়তা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা:
অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, ভুয়া পরিচয়, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
কিশোরী ও তরুণীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা:
অনলাইন সহিংসতার শিকার কিশোরী ও তরুণীদের জন্য কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং নিরাপদ রেফারেল সেবা সহজলভ্য করা।
যুব নেতৃত্ব ও কমিউনিটি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি:
তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী এবং কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে সাইবার নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে স্থানীয় উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণ এবং হয়রানির অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করা।
বহুপক্ষীয় সমন্বয় জোরদার করা:
সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, গণমাধ্যম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং যুব সংগঠনের সমন্বয়ে অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গঠনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন