আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দক্ষিণ চীন সাগরে পানির গভীরে একটি বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু-সক্ষমতার একটি ডুবোজাহাজ। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন এমন খবর দিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, দুর্ঘটনায় ইউএসএস কানেক্টিকাটের বেশ কয়েকজন নাবিক আহত হয়েছেন। তবে কোনো প্রাণহানির শঙ্কা নেই। ডুবন্ত সি-উলফ শ্রেণির ডুবোজাহাজটি কীসের সঙ্গে থাক্কা খেয়েছে, তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিট বলছে, ডুবোজাহাজটি নিরাপদ, অক্ষত ও স্থিতিশীল আছে। এতে ইউএসএস কানেকটিকাটের পরমাণু-চালিত প্ল্যান্ট ও স্পেসে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি এবং পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে প্যাসিফিক ফ্লিট। দুর্ঘটনাটি কী ধরনের ছিল, তার সুনির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা দেয়নি। তাইওয়ানের বিমান প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে (এডিআইজেড) চীন সামরিক আগ্রাসন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের পানিতে ইউএসএস কানেকটিকাট সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্যারিয়ার স্টাইক গ্রুপ ২১-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা সাগরটিতে বহুজাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন করছে। চলমান অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস এক ধরনের জাহাজ মহড়ার আয়োজন করেছে। এতে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে চল্লিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। চীনের যুদ্ধবিমান বার বার তাইওয়ানের আকাশসীমায় অণুপ্রবেশ করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইস্যুটি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাইওয়ান চুক্তি মেনে চলতে চীন সম্মত হয়েছে বলে জানান বাইডেন।
চলতি সপ্তাহেই প্রায় দেড় শতাধিক চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করে তাইওয়ানের আকাশসীমায়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ তাইপে। বুধবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাইওয়ানের পার্লামেন্টে।
এক এমপির প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও চেং দাবি করেন, বর্তমানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা গেল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। দেশটি তাইওয়ানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও চেং বলেন, গেল কয়েকদিন ধরেই চীন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো অরাজকতা চাচ্ছি না। আমাদের ওপর আগ্রাসন চালানোর সক্ষমতা চীনের আছে। কিন্তু তারা সহজেই যুদ্ধ শুরু করবে না। ২০২৫ সালে তারা পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবে।
তিনি যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন তাইপের একটি সংসদীয় কমিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও রণতরী কেনার জন্য শত শত কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা বিল নিয়ে আলোচনা চলছে।
তাইওয়ানের ওপর চীন এখনই হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে একথা স্বীকার করে চিউ কুও চেং বলেন, আগামী দিনগুলোতে এই হামলা চালানো অনেক সহজ হয়ে আসবে। তবে এ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
এর আগে মঙ্গলবার এক নিবন্ধে দ্বীপ রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, চীনের কাছে তাইওয়ানের পতন হলে এশিয়ার পরিণতি হবে বিপর্যয়কর।
