হোম আন্তর্জাতিক কাশ্মীরে চার সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান, ডেকে নিয়ে জেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে চার সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে উপত্যকাটির সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে। বছর দুয়েক আগে হিমালয় অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে।

বাড়িতে হানা দেওয়ার পর ওই চার সাংবাদিককে শ্রীনগরের স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে তলব করা হয়েছে। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সেখানে তাদের জেরা করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের বাড়িতে এভাবে কেন তল্লাশি কিংবা ডেকে নিয়ে জেরা করা হয়েছে, তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ভারতীয় পুলিশ।

দোহাভিত্তিক আল-জাজিরা এমন খবর দিয়েছে। চার সাংবাদিকের মধ্যে তিনজন বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি করেন। আরেকজন স্থানীয় একটি সংবাদ সাময়িকীর সম্পাদক। কাশ্মীরের সাংবাদিকদের বহু বছর আগ থেকেই মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে থেকে কাজ করতে হচ্ছে। অতীতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রাণঘাতী হামলার নিশানা হতে দেখা গেছে তাদের।

ভারতীয় পত্রিকায় কাজ করা স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই উপত্যকাটিতে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হয়রানি বেড়েছে। বহু সাংবাদিককে আটক, মারধর, হয়রানি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তদন্তের কবলে পড়তে হয়েছে।

আরেক তরুণ সাংবাাদিক বলেন, সাংবাদিকদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান ও জেরার কারণে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে সাংবাদিকতাকে পুরোপুরি অপরাধ বলে সাব্যস্ত করা হচ্ছে। তারা কেবল নিজেদের জন্যই ভীত না, পরিবারকে নিয়েও নিয়মিত শঙ্কায় কাটাতে হচ্ছে।

২৯ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক বলেন, আমাদের সব ধরনের ঝুঁকির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

সরকারি বাহিনীর প্রতিহিংসার ভয়ে এসব সাংবাদিক নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। সামাজিকমাধ্যমেও তাদের সরব হতে দেখা যায় না।

মুক্তভাবে সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ দিতে ভারতীয় সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে কাশ্মীরি প্রেসক্লাব। অভিযোগ করে এই ক্লাবটি বলছে, সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করতে ও ভয় দেখাতে তাদের তলব, হুমকি ও হামলা করা হচ্ছে। তাদের এমনভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতার চর্চা করতে না পারেন।

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, কাশ্মীরে সাংবাদিকদের চর্চা করা দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। গত বছরের জুনে একটি বিতর্কিত গণমাধ্যম নীতি প্রণয়ন করেছে ভারত। তাতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সেন্সর আরোপের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে সরকারকে।

সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিহিংসার ভয়ে কাশ্মীরের সাংবাদিকতা এক ধরনের নেতিয়ে পড়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন