আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কঙ্গো নদীতে একটি নৌযান ডুবে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত ও আরও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।
শুক্রবার (৮ অক্টোবর) দিন শেষে ৫১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে নৌকাটি ডুবে যায় বলে খবরে বলা হয়েছে। গণতন্ত্র প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় মঙ্গালা প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র নেস্তর মাগবাদো বলেন, এখন পর্যন্ত ৭০ জন নিখোঁজ থাকার খবর পেয়েছি। ৩৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌকাটির যাত্রী সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিখোঁজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। গভর্নরের মুখপাত্র বলেন, এটি ছিল পিরোগুয়েস নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকা।
রাতের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবারের আগে এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর না আসায় দুর্ঘটনার মাত্রা নিয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
শনিবার নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। নেস্তর মাগবাদো বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধার করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যাপক খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলটিতে দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই। যারা নৌকায় যাত্রা করেন, তারা খুব একটা লাইফ জ্যাকেটও পরেন না।
গেল ফেব্রুয়ারিতে এক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। তখন লঙ্গোলা একোতি নামের গ্রামের কাছে কঙ্গো নদীতে ৭০০ যাত্রী বোঝাই একটি নৌকা ডুবে গিয়েছিল।
আর জানুয়ারিতে লেক কিভুতে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে দুটি শিশু ও একজন নারী মারা যান। গেল বছরের মে মাসে লেক কিভুতে ভ্রমণের সময় একটি অবকাশ যাপনের নৌকা ডুবে আট বছর বয়সী একটি শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
