মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে: প্রতিমন্ত্রী স্বপন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সম্মান দিয়ে সকল সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শাসক-শোষক গোষ্ঠীর হাত থেকে নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙ্গালি জাতিকে মুক্ত করতে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এদেশের ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল বলেই মাত্র নয় মাসে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী শনিবার মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে বাঙ্গালি জাতি সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু পরাজিত শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। ৭৫’ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্র থেকে এদেশের নাম উঠিয়ে দিতে চেয়েছিল। বাঙ্গালি জাতির ঐক্যবদ্ধতার কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি। তারপরও বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে বাঙ্গালি জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে নানা ছক কষে তারা। কিন্তু আবহমানকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এদেশের মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারেনি। তিনি এসময় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহবান জানান।
এসময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সম্মান দিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। এজন্য প্রতিটি নির্বাচনে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির পক্ষে কাজ করতে হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম। আরও বক্তৃতা করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আলা উদ্দীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জলি আক্তার, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বশির আহম্মেদ খান, ওসি (তদন্ত) মাহবুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা হাদিউজ্জামান ফয়সাল এবং সাইদুর রহমান জনি।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৬৩ জন বীরমুক্তিযোদ্ধার হাতে স্মার্ট আইডি কার্ড ও ১২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।
