সংকল্প ডেস্ক :
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ এবং মহান ভাষা শহীদদের নিয়ে ষাটের দশক থেকে লেখালেখি করে খ্যাতি লাভ করা বিশিষ্ট কবি কাজী রোজী আর নেই। ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২.৩০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে সমগ্র সাতক্ষীরা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজের পক্ষে সাংবাদিক ঐক্য কাজী রোজীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একইসাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
রোববার সাতক্ষীরা সাংবাদিক ঐক্যের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহনকারী এই ক্ষনজন্মা নারী ছিলেন তালার তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা কবি সিকান্দার আবু জাফরের সহধর্মিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে তিনি তথ্য অধিদপ্তরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে কাজী রোজী অবসর গ্রহন করেন। তিনি দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা করেছেন। কাজী রোজীর একমাত্র মেয়ে সুমি সিকান্দার তার মায়ের মৃত্যুতে দেশবাসীর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন। একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় কবি কাজী রোজী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ও লালনে লেখালেখি করে বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ন জায়গা করে নেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। তার মৃত্যুর ফলে দেশবাসী একজন গুনী মানুষকে হারালো।
কবি কাজী রোজী ছিলেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় অসামরিক পদক ‘একুশে পদক’ প্রাপ্ত। সাতক্ষীরা জেলায় তিনিই প্রথম এই মর্যাদাকর পদক অর্জনের অধিকারী ছিলেন। সাতক্ষীরা সাংবাদিক ঐক্য’ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার স্মৃতিকে ধরে রাখার আহবান জানিয়েছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন- সাংবাদিক ঐক্য’র আহবায়ক সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভির সুভাষ চৌধুরী এবং সদস্য সচিব দেশ টিভি ও দেশ রুপান্তরের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। এছাড়াও বিবৃতিদাতারা হলেন-সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক কালের চিত্রের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি দৈনিক পত্রদূত’র সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আনিসুর রহিম, সাবেক সভাপতি দৈনিক ইত্তেফাক ও ইটিভি’র মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সভাপতি চ্যানেল আই’র আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি আরটিভি’র রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াজেদ কচি, সাবেক সহ-সভাপতি দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো সম্পাদক ওয়ারেশ খান চৌধুরী পল্টু, দৈনিক পত্রদূত’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতী, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক জনকণ্ঠর মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দিনকালের আব্দুল বারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক সময়ের খবরের রুহুল কুদ্দুস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সময়ের আলোর কাজী শহিদুল হক রাজু, দৈনিক প্রবাহের এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, দৈনিক কালের কন্ঠর মোশাররফ হোসেন, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি ও আজকের পত্রিকার আবুল কাশেম, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব চ্যানেল ২৪ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, বাংলাদেশ বেতারের ফারুক মাহাবুবর রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বণিক বার্তার গোলাম সরোয়ার, ডিবিসি’র এম. জিললুর রহমান, সমাজের কথা ও মোহন টিভির আব্দুল জলিল, দীপ্ত টিভির রঘু নাথ খাঁ, যমুনা টিভির আহসানুর রহমান রাজিব, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ নিউজের আব্দুস সামাদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক মো: রবিউল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের মুহা. জিললুর রহমান, কালের চিত্রের আশরাফুল ইসলাম খোকন, সিটিজেন টাইমস’র ফারুক রহমান, গণজাগরণের শেখ বেলাল হোসেন, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, চ্যানেল নাইন’র কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী, সমাজের কাগজের আমিরুজ্জামান বাবু, দৈনিক তথ্যের রফিকুল ইসলাম শাওন, এফএনএস’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও দৈনিক পত্রদূতের বার্তা সম্পাদক এসএম শহীদুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউন ও নয়া শতাব্দীর আসাদুজ্জামান মধু, বাংলা টিভির গোপাল কুমার মন্ডল ও দৈনিক যায়যায় দিন’র ডিএম কামরুল ইসলাম প্রমূখ।
