নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরবাসীর ন্যূনতম ও ন্যায্য নাগরিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় লোহাগড়া পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন সর্বস্তরের পৌর নাগরিকরা।
দীর্ঘদিন ধরে চরম নাগরিক অবহেলা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শত শত ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা পৌরসভার নানা অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, লোহাগড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও আজ পর্যন্ত পৌরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঐতিহ্যবাহী লোহাগড়া বাজারের অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো বাজার এলাকা কর্দমাক্ত ও চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় চারদিকে দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট–বড় দুর্ঘটনা।
“পৌরসভার ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করলেও আমরা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না। সড়ক বাতি নষ্ট থাকায় রাতে পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যা চুরি–ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পৌরবাসীর এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্য রাখেন,লোহাগড়া পৌর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ সাইফুল্লাহ মামুন, জেলা জামায়াতে ইসলামী কর্ম পরিষদ সদস্য মোঃ জামিরুল হক টুটুল, স্থানীয় কৃষকদল নেতা এনামুল কবির চন্দন, স্থানীয় যুবদল নেতা মোঃ তারেক,
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, লোহাগড়া পৌরবাসীর দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় পৌরসভার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন হলেও জনগণের সেবার বেলায় কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। ময়লা আবর্জনার সঠিক অপসারন, পর্যাপ্ত ও সচল সড়কবাতি নিশ্চিত করা এবং চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য তারা জোর দাবি জানান।
পৌরবাসীর এই দীর্ঘদিনের ন্যায্য ও ন্যূনতম দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেনে নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে মানববন্ধনে ঘোষণা দেওয়া হয়।
