হোম জাতীয় র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে হাবিপ্রবি’র ৪১ শিক্ষার্থীকে শোকজ

জাতীয় ডেস্ক :

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের ২০ ব্যাচের ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাটিজস বিভাগের ১১ জনকে র‌্যাগ দেওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন হাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গত ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের নাজেহাল করতে এ ধরনের বিব্রতকর ও অস্থিতিশীল র‌্যাগিংয়ে অপমানজনক কার্যক্রম সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করেছে।

বিষয়টি প্রাথমিক সত্যতার বিরুদ্ধে তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে এই নোটিশ প্রদান করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে র‌্যাগিংয়ের সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‌্যাগিং নির্মূল করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা র‌্যাগিংকে একদমই সাপোর্ট করি না। কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের সংশ্লিষ্টতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাগিং নীতিমালা অনুযায়ী আমরা শাস্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। এ ঘটনা ছাড়া আরও বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। আমরা সেসব অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদেরকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সর্বোপরি হাবিপ্রবিকে র‌্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পাস করতে চাই। সেই লক্ষ্যে সব শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

হাবিপ্রবি’র স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক আবু তোয়াব মো. শাহরিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা খুব বেশি দিন ক্যাম্পাসে থাকার সুযোগ পায়নি। সুতরাং ২০ ব্যাচের যে সব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠছে আমার দৃষ্টিতে তারাও ক্যাম্পাসে নতুন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি মূলত তারা পরিচিত হতেই ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছে যায়। সেখানে ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে। হয়তো কিছু আচরণগত কারণে একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থাপত্য বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান সিয়াম র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মতো আমাদের জুনিয়ারদের সঙ্গে পরিচিত হতে গিয়েছিলাম। কারণ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমাদের একটি প্রদর্শনী রয়েছে। তাই তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি করতে পারলে আমাদের জন্য কাজগুলো সহজ হয়ে যেত। কারণ স্বাধীনতা দিবস আমাদের অতি সন্নিকটে।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন