আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়ার কাছে বেইরাকতার টিবি২ ড্রোন সরবরাহের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তুরস্কের বিয়াকার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হালুক বেইরাকতার।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে এই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার (১৮ জুলাই) সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভয়াবহ আগ্রাসী ও অসম হামলার কবলে পড়েছে ইউক্রেন।
সাংবাদিক জুলিয়া চ্যাটারলির প্রশ্নের জবাবে হালুক জানান, আমরা রাশিয়ার কাছে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করিনি। ভবিষ্যতেও এমন কিছু করার শঙ্কা নেই। কারণ আমরা ইউক্রেন ও তার সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করছি। নিজের স্বাধীনতার জন্য ইউক্রেনের প্রতিরোধেও আমাদের পরিপূর্ণ সমর্থন আছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে বেইরাকতার টিবি২ প্রতীক হওয়ায় নিজের গর্বের কথা জানান তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে জোরালো বন্ধন ও বহু বছরের সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে হালুক বলেন, এটি খুবই করুণ।
কিয়েভ সরকারের জন্য মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) কিনতে লিথুনিয়া, পোল্যান্ড ও নরওয়েতে গণঅর্থায়ন শুরু হয়েছে। হালুক বেইরাকতার বলেন, আমরা তাতেও অর্থ দিয়েছি। আমরা তাদেরকে আমাদের মানববিহীন যান সরবরাহ করেছি।
গেল মে মাসে ড্রোনের জন্য প্রায় ষাট লাখ ইউরো তোলা হয়েছে গণঅর্থায়নের (ক্রাউডফান্ডিং) মাধ্যমে। মানববিহীন যান কিনতে এই অর্থ খুব কম হলেও তুর্কিশ ড্রোন নির্মাতা বিনাপয়সায় তা দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ড্রোনকে অস্ত্রসমৃদ্ধ করতে ১৫ লাখ ইউরো খরচ করতে রাজি হয়েছে লিথুনিয়া ও হালুক বেইরাকতার। গণঅর্থায়নের বাকি অর্থ মানবিক সহায়তার কাজে ব্যবহার করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক থেকে কুড়িটিরও বেশি বেইরাকতার টিবি২ ড্রোন কিনেছে ইউক্রেন। গেল ২৭ জানুয়ারি আরও ১৬টির ক্রয়াদেশ দেওয়া হলে তা মার্চে সরবরাহ করা হয়েছে।
গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অভিযানের পর তুরস্কের কাছ থেকে অর্ধশতাধিক ইউএভি গ্রহণ করেছে ইউক্রেন। পূর্ব ইউরোপের দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসিই রেজনিকভ জুনের শেষ দিকে এমন তথ্য দিয়েছেন।
১৯৮০ সালের দিকে হালুকের বাবা বিয়াকার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে। ভাই সেলকুক বেইরাকতারকে নিয়ে পরবর্তীতে তা পরিচালনা করেন হালুক। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের শ্যালক হলেন তারা দুই ভাই।
বেইরাকতার টিবি২ ড্রোন একটানা ২৭ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে। আর এটির সর্বোচ্চ উড্ডয়ন উচ্চতা হলো সাত হাজার ৬২৯ মিটার। যুদ্ধে ব্যাপক সফলতার কারণে ইউক্রেনে এই ড্রোন নিয়ে গানও রচিত হয়েছে।
