জাতীয় ডেস্ক :
সাগরে ডুবে যাওয়া একটি কাঠবোঝাই ট্রলার উদ্ধারে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি ১৮ জেলে। মাছ ধরে ফেরার সময় মিয়ানমার সীমান্তে একটি ট্রালারকে ডুবে যেতে দেখে সাহায্য করতে যান তারা। এরপরই মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) তাদের ধরে নিয়ে গেছে। এদিকে দুদিন পার হয়ে গেলেও এখনো বিজিপি ফেরত দেয়নি জেলেদের। উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী। মঙ্গলবার বিকেলে সাগর থেকে চারটি নৌকায় করে মাছ ধরে ফিরছিলেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ১৮ জেলে। এ সময় নাফ নদীর মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় তারা কাঠবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যেতে দেখেন। ট্রলারটির উদ্ধারকাজে অংশ নেন বাংলাদেশি জেলেরা।
উদ্ধারকাজ শেষে ফিরে আসার সময় স্পিডবোটে করে বিজিপি তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যায় তারা।
দুদিন পেরিয়ে গেলেও জেলেদের এখনো ফেরত দেয়নি বিজিপি। উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন জেলেদের পরিবারের সদস্যরা।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম জানান, মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) বিকেলে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীর মোহনাসংলগ্ন সাগরের জলসীমা থেকে এসব জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. জসীম (২৫), একই এলাকার সাইফুল ইসলাম (২৩), মো. ফায়সাল (২৩), আবু তাহের (২২), মো. ইসমাইল (২০), মো. ইসহাক (২৪), আব্দুর রহমান (২৪), নুর কালাম (২৬), মো. হোসেন (২২), হাসমত (২৫), মো. আকবর (২৩), নজীম উল্লাহ (১৯), রফিক (২০), সাব্বির (২৫), মো. হেলাল (২৫), রেজাউল করিম( ১৮), রমজান (১৬) ও জামাল (২১)।
ট্রলারগুলোর মালিক টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. জসিম, নুর কালাম, মো. ইসলাম ও নুর কালাম।
দ্রুত জেলেদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন টেকনাফ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি। তিনি বলেন, ‘দুদিন পার হয়ে গেলেও এখনো জেলেদের কোনো হদিস মিলছে না। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের উদ্ধারে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ফেব্রুয়ারি মাসে বিজিপির গুলির পর নিখোঁজ রয়েছেন এক জেলে। আরও এক জেলে সাঁতরে চলে আসেন বাংলাদেশে।
