হোম খেলাধুলা ফিফা এবং উয়েফার সাবেক প্রেসিডেন্টকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি

খেলাধূলা ডেস্ক :

সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার এবং সাবেক উয়েফা প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনিকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে, নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন সুইস আদালত।

প্রায় সাত বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে শুক্রবার (০৮ জুলাই) সুইজারল্যান্ডের বেলিনজোনার একটি আদালতে তাদেরকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

২০১৫ সালে জালিয়াতিসহ বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। তদন্ত করে ফিফার ইথিকস কমিটি। মামলা করার পাশাপাশি একই সঙ্গে উভয়কে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে ফিফা। এতে ১৭ বছর ফিফার প্রেসিডেন্ট থাকা ব্লাটারকে পদ ছেড়ে দিতে হয়। ফিফার প্রাক্তন পরামর্শদাতা ও উয়েফার প্রেসিডেন্ট প্লাতিনি তার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলে হেরে উয়েফার ৮ বছর ধরে দখলে রাখা মসনদ ছাড়তে বাধ্য হন। তবে উভয়ই অপরাধ অস্বীকার করেন।

এরপর ফিফার ইথিকস কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সালের উপদেষ্টা কাজের জন্য প্লাতিনি তার পরামর্শমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার আট বছর পরে অর্থ চেয়ে আসছিল। ব্লাটারের সংশ্লিষ্টতায় ফিফা ২০১১ সালের শুরুতে প্লাতিনিকে সেই অর্থ প্রদান করে। ফিফার তদন্তে এ লেনদেনে উভয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ক্ষমতা অপব্যবহার, অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনা এবং একটি নথি জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে আরও জানানো হয়, ফিফার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১১ সালে ব্লাটার বেআইনিভাবে প্লাতিনির কাছে দুই মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বেশি। এভাবে অর্থ দিয়ে ‘ফিফার সম্পদের ক্ষতি এবং বেআইনিভাবে প্লাতিনিকে সমৃদ্ধ’ করা হয়েছে বলে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে ব্লাটার জানান, প্লাতিনিকে মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে টাকা দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সে ফিফা পরামর্শদাতা ছিল। কিন্তু সে সময় সংস্থার আর্থিক সঙ্কটের কারণে তার বেতনের পুরোপুরি অর্থ শোধ করা সম্ভব হয়নি। যেটা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হয়েছে। ফিফার অনুমোদনেই এটি হয়েছে বলে দাবি তার।

স্কাইস্পোর্টস জানাচ্ছে, অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট না। ফুটবলের এই প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি ২০১০ সালে একবার মিলিত হয়েছিল। যেখানে ২০১১ সালে ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। যখন অর্থের লেনদেন হয়, সে সময় ব্লাটার কাতারের মোহামেদ বিন হাম্মামের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছিল। একই সময়ে উয়েফা প্রেসিডেন্ট প্লাতিনি। যে কিনা ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব রাখার সক্ষমতা রাখত তখন। কারণ ফুটবলে সব সময় ইউরোপের একটা আধিক্য থাকে।

এদিকে প্লাতিনি দাবি করে, ২০১৫ সালে তিনি ফিফা প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াবেন জেনে একদল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। উয়েফাতে সে সময় প্লাতিনির সেক্রেটারি পদে থাকা জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এদিকে রায়ের পর প্লাতিনি বলেন, ‘সাত বছর ধরে চলা মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। আমার যুদ্ধ একটি অন্যায় বিচারের বিরুদ্ধে। যার প্রথমটি আমি জিতেছি। এ মামলায় ষড়যন্ত্রকারীরা রায়ের সময় উপস্থিত হয়নি। আমাদের আবার সাক্ষাত হবে। তখন তাদের দেখে নেব।’

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন