হোম জাতীয় নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন, পেনশন দ্বিগুণ, গেজেট কবে?

নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন, পেনশন দ্বিগুণ, গেজেট কবে?

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 17 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিশ্চিতভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় এখনো চূড়ান্ত করে জানানো হয়নি। তবে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এই নতুন বেতন কাঠামোর যাবতীয় রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া এই রূপরেখা অনুসারে, নতুন পে-স্কেলটি একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে মোট তিনটি পৃথক ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন এই বেতন কাঠামোর পরিকল্পনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কথা বিবেচনা করে তাদের মূল বেতন শতভাগ বা দ্বিগুণ করা হতে পারে বলেও জোরালো আলোচনা চলছে।

বাজেট পেশের সময় দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই পুরোনো বেতন কাঠামোর অধীনে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই মূল্যস্ফীতি ঘটার কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও খরচ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী আরও যোগ করেন, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য একদম নতুন একটি বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই (২০২৬) তারিখ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিচ্ছি। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

নতুন পে-স্কেলের খসড়া সুপারিশে চাকরিজীবীদের অবসরের পরের জীবন সুরক্ষিত করতে তিন স্তরে পেনশন বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যারা বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন ১০০ শতাংশ অর্থাৎ সম্পূর্ণ দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে।

একইভাবে যাদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া যারা প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন ভোগ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে প্রস্তাবিত নতুন এই বেতন কাঠামোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেবল মূল বেতনই বাড়ছে না, বরং এর পাশাপাশি শিক্ষা, টিফিন ও বৈশাখী ভাতার মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এই প্রস্তাবের আওতায় বর্তমানে প্রচলিত বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সাথে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত মাসিক টিফিন ভাতা বর্তমানের মাত্র ২০০ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ থাকা মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন