আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জলবায়ু সংকটের বিরুপ প্রভাব প্রত্যক্ষ করছে বিশ্ব। বিশাল একটা অঞ্চলজুড়ে চলছে দাবানল আর দাবদাহ। ফলে এক নারকীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, জলবায়ু সংকট সমগ্র মানব অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির প্রতি অবিচার, বন উজাড়, শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য, কালো ধোঁয়া ও যানবাহনের কারণে পরিবেশ দূষণ। ফলে তৈরি হচ্ছে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দাবদাহ ও দাবানলের মতো নতুন নতুন সংকট।
চলতি গ্রীষ্মের দাবদাহে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ দাবানল। রোববার পর্যন্ত দাবানল নেভার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং এ মহাদেশের কিছু এলাকায় আগামী সপ্তাহের শুরুতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।
ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন ও গ্রিসের অগ্নিনির্বাপণের (ফায়ার সার্ভিস) কর্মীরা দাবানল নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাজার হাজার হেক্টর এলাকা ধ্বংস হয়েছে দাবানলে।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য ৪০টি দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘বন্যা, খরা, ঝড় ও দাবানলের কারণে মানবজাতির অর্ধেকই বিপদজনক অঞ্চেলে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। কোনো দেশই এখনও আর সংকটমুক্ত নয়।’
গুতেরেস আরও বলেন, ‘তবুও আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির প্রতি আসক্তি ছাড়তে পাড়ছি না। ধীরে ধীরে সবাই মিলে একসঙ্গে আত্মহননের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।’বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন দাবানল ও দাবদাহের মধ্যে এদিন জার্মানির বার্লিনে দুদিনব্যাপী এক জলবায়ু সম্মেলনে শুরু হয়।
পিটার্সবার্গ ক্লাইমেট ডায়লগ নামের এ সম্মেলনে ২৭ দেশের প্রতিনিধিরা চলমান চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া ও জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকটের বিরুপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন।
