আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়া চাইলে দ্রুতই ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে এখনো আগ্রাসী কোনো হামলা চালায়নি রুশ সেনারা। খবর বিবিসি।
সোমবার (১৪ মার্চ) এক অডিও বার্তায় এমন মন্তব্য করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। ওই বার্তায় তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে অভিযান সফল করতে অন্য কোনো রাষ্ট্রের সহায়তার প্রয়োজন নেই রাশিয়ার।
গেল ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতেই যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করে। ওই ঘোষণার দুদিন যেতে না যেতেই ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
অভিযান শুরুর পর কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় রুশ সেনারা। এরপর তারা দেশটির রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয়। সেসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নিতে ৪০ মাইল দীর্ঘ সাঁজোয়া বহর পাঠিয়েছে রাশিয়া। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায়, ধীর গতিতে এগুচ্ছে রুশ বহর। আর এটাকে পুতিনের ভুল সামরিক কৌশল বলেও মন্তব্য করা হয়।
আলোচনা-সমালোচনার মুখে স্থানীয় সময় সোমবার ইউক্রেনে রুশ সেনাদের অগ্রগতি নিয়ে এক অডিও বার্তা প্রকাশ করে মস্কো। এতে পুতিনের কৌশলকে সঠিক বলে মন্তব্য করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছে পর্যাপ্ত সেনা ও যুদ্ধের সরঞ্জাম আছে যার সাহায্যে দ্রুত ইউক্রেনের বেশিরভাগ শহর নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে মস্কো। তবে দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আগ্রাসী কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না পুতিন।
অডিও বার্তায় ইউক্রেনের সেনাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেন পেসকভ। তিনি বলেন, বেসামরিক স্থাপনায় সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করেছে ইউক্রেন। আর এতে সাধারণ মানুষের হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে রুশ সেনারা অগ্রসর হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো কিয়েভসহ পুরো ইউক্রেনে আগ্রাসী হামলা চালাতে রাশিয়াকে উসকানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পেসকভ।
