আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
আশাশুনির কাদাকাটিতে ইজারাকৃত সরকারি জলমহাল জবর দখল নিয়ে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে বাসায় আগুন দেওয়াসহ মাছ লুটপাটের ঘটনায় বাঁধা দেওয়ায় ২ জনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি মৌজায় হলদেপোতা নদীর উত্তর বিলে সরকারি ইজারাকৃত জলমহালে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগে ও সরজমিনে ঘুরে জলমহালের মালিক সহ আশেপাশের বিভিন্ন মৎস্য ঘেরের মালিকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে খাজরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে হলদেপোতা জলমহাল ইজারা গ্রহন করে। উক্ত সমিতির কর্মকর্তাদের কাছে থেকে কাদাকাটি গ্রামের মইনুর সরদারের পুত্র মেকাইল ইসলাম ৪৫ বিঘা একটি খন্ড হারীর টাকা পরিশোধ করে চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘদিন যাবৎ ঐ জলমহালে শান্তি পূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করিয়া আসছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ায় একই গ্রামের হাকিম সরদারের পুত্র হাফিজুল সরদার সহ তার সহযোগীরা উক্ত জলমহালটি ইজারা পেয়েছেন ঘোষনা দিয়ে জলমহালটি দখল নেওয়ার জন্য গত ২০/০৪/২০২২ তারিখে তার নেতৃত্বে মাছ ধরা জাল সহ দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে প্রবেশ করে ঘুনি পাটা ভাঙচুর করে নেট পাটা কেটে জলমহালে জাল ফেলে মাছ ধরতে থাকলে মিকাইল ইসলাম বাঁধা দিলে তাকে পিটিয়ে আহত করে।
এ বিষয়ে সে বাদী হয়ে থানায় একটি ইজাহার দায়ের করে। লিখিত অভিযোগ পেয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মমিনুল ইসলাম(পিপিএম) এর নির্দেশে ঘটনা তদন্ত করে এস আই আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনার তদন্ত চলাকালে ৫ দিন পর আবারো ২৫ তারিখে রাতে মিকাইল ইসলাম ও তার নানা ডালিম সরদার জলমহাল পাহারা দিচ্ছিলেন।
এসময় ১ টার দিকে একাধিক মামলার আসামী এলাকার ত্রাশ বিভিন্ন মানুষের জমিজমা দখলকারী একই গ্রামের হাফিজুল সরদারের নেতৃত্বে মৃত আব্দুস সাত্তার সরদারের পুত্র লাভলু সরদার, মৃত তকিম উদ্দীন বেগের পুত্র গোলাম রসুল বেগ, মফি সরদারের পুত্র সবুজ সরদার, হাকিম সরদারের পুত্র মফিজুল ইসলাম সহ ৭/৮ অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিরা দলবদ্ধ হয়ে ঐ জলমহালে প্রবেশ করে মাছ ধরতে থাকলে জলমহালের মালিক মিকাইল ইসলাম ও তার নানা ডালিম সরদার বাধা দিলে এলোপাতাড়ি ভাবে তাদেরকে পিটিয়ে জখম করা সহ ঘেরের বাসায় আগুন জালিয়ে দেয়।
এসময় ঘেরে পাহেরা দিতে থাকা মিকাইল ও তার নানা ডালিম চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন ধর ধর বলে ছুটে আসতে থাকলে মাছ লুটপাট কারীরা দ্রুত মামলা মকদ্দমা না করার হুমকি দিয়ে ঘটনাসস্থল থেকে সরে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্নয় কমিটির সভা চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যান এ বি এম মোস্তাকিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়ানুর ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভ‚মি শাহিন সুলতানাকে অবহিত করে কমিটির সদস্য আশাশুনি সদরের চেয়ারম্যান এস,এম হোসেনুজ্জামান হোসেন ও কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দীপংকর কুমার সরকার দীপ বলেন কাদাকাটি হলদেপোতা জলমহাল নিয়ে হাফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি খাল দখল নিয়ে অগ্নি সংযোগ, মারপিট ও মাছ লুটপাট করা সহ এলাকা অশান্ত সৃষ্টি করে তুলেছে। এলাকা শান্ত রাখতে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় তাদের আহবানে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস্থ করে বলে বিষয়টি রেজুলেশন করে অবশ্যই বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ জলমহালের মালিক মিকাইল ইসলাম বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে বাদী এ প্রতিবেদকে জানায়। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় দু পক্ষের মধ্যে বড়ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্খা রয়েছে। পরিসিস্থতি শান্ত রাখতে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে গ্রাম বাসী।
