আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনিতে দু’পক্ষের মারপিটের ঘটনায় শালিসকারক যুবলীগ নেতা মামলার আসামী হওয়ায় দলীয় নেতৃবৃন্দের ক্ষোভ প্রকাশ। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার আনুলিয়া গ্রামের কাকবাসিয়া গ্রামের মৃত. মজিদ সানার পুত্র আব্দুস সোবহান গংদের সাথে পার্শ্ববর্তী আইয়ুব আলী গাজীর পুত্র বিল্লাল গংদের দীর্ঘদিন বসতবাড়ীর জমি কেন্দ্রিক বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, থানাসহ বিভিন্ন মহলে কয়েকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে।
সর্বশেষ থানা পুলিশের মাধ্যমে মাপ জরিপান্তে উভয়ের জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ সহ কয়েক জন ভারসাম্য ব্যক্তিকে মৌখিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে মোতাবেক গতকাল স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিনের মাধ্যমে মাপ জরিপ কার্য পরিচালনা করে দুপুর ২টার দিকে প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সহ উভয় পক্ষের লোকজন বাড়ী ফিরে যায়।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৃত. মজিদ সানার পুত্র শহিদুজ্জামান ঘেরা-বেড়ার কাজ করতে থাকলে প্রতিপক্ষের আইব গাজীর পুত্র বিল্লাল, আলমগীরসহ তাদের পরিবারের লোকজন বাড়ীতে থাকা দা, শাবল, লাঠি-সোটা নিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করে। বাঁধা উপেক্ষা করে শহিদুজ্জামান বেড়ার কাজ অব্যহত রাখলে বিল্লাল গংরা মাথায় কুপিয়ে ও মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে সে এখনও সাতক্ষীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অপর দিকে, বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিপক্ষ শহিদুজ্জামানের পরিবারের লোকজন লাঠি সোটা নিয়ে তাদের বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করে বেধড়ক মারপিট করে অন্তঃসত্তা নারীসহ ৩/৪ জনকে আহত করে ও বাড়ীতে ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে আশাশুনি থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে।
আনুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম জানান, আমি উভয় পক্ষের বিরোধে শালিস কারকদের একজন ছিলাম। বিরোধপূর্ণ জমি পূর্ব শালিস অনুযায়ী আমিন দিয়ে মাপ-জরিপ কার্য বেলা ২টার দিকে প্রাথমিকভাবে শেষ করে বাড়ী ফিরে যাই। আনুমানিক ৪টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা শুনে আমি ঘটনাস্থলের দিকে যেতে থাকি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষের মারপিটে উভয় পক্ষের আহতরা আশাশুনি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে আমি প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট থেকে বিষয়টি জানাশুনা করি। মারপিটের ঘটনায় আমি আদৌ জড়িত বা উপস্থিত ছিলাম না।
অহেতুক একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়লা লোটার জন্য আমাকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। এতে আমি এটিএম ক্ষুব্ধ ও হতাশা গ্রস্থ। তিনি প্রশাসনের সঠিক তদন্ত পূর্বক মামলা থেকে অব্যহতি পাওয়ার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন, ইউপি সদস্য শওকত হোসেন সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উদুর পিন্ডি বুদোর খাড়ে চাপাতে একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে যুবলীগ নেতা এটিএমকে মামলায় আসামী করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনতিবিলম্বে সঠিক তদন্ত পূর্বক মিথ্যা মামলা থেকে এটিএমকে অব্যহতি দিতে পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
