আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
আশাশুনিতে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করছে এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। শনিবার সকালে খবর থানা পুলিশ নিহত শরিফুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবার সুত্রে জানাগেছে প্রতাপনগর ইউনিয়নের লস্করি খাজরা গ্রামের আব্দুল মজিদ গাজীর পুত্র শরিফুল ইসলাম (২৬), একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফি গাজির কন্যা ফতেমা খাতুন (২২), এর বিবাহ হয়। এরপর গত ছয় মাস যাবত ঘরসংসার করে আসছিলো। পনের দিন আগে তার স্ত্রী পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসে। এরপর মেয়ের পিতা মাতা তাকে আর স্বামীর বাড়িতে যেতে না দিয়ে আটকে রাখে।
পরবর্তীতে গৃহবধু ফতেমার স্বামী শরিফুল ইসলাম স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে আনতে গেলে তাদের মেয়েকে জামাই এর বাড়িতে পাঠাবে না বলে জামাই শরিফুল ইসলামকে মান অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। কিছুদিন আগে ফতেমা খাতুন রাতে পিতা মাতার অজান্তে স্বামীর সাথে বাড়িতে চলে আসে। এরপর মেয়ে না দেখতে পেয়ে খোজাখোজির এক পর্যায়ে রাতে জানতে পারে তাদের মেয়ে স্বামীর বাড়িতে চলে গেছে। ঐ রাতেই তারা সেখানে এসে তাদের মেয়েকে জোরপূর্বক শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন শ্বশুড় শ্বাশুড়ি সহ পরিবারের লোকজনের সহিত বিরোধ চলে আসছিল। গত শুক্রবার গৃহবধু ফতেমা তার স্বামী শরিফুলকে মোবাইল ফোনে বাপের বাড়িতে আসতে বললে রাতে সে শ্বশুর বাড়িতে যায়।
ঐ দিন রাত চারটার দিকে শরিফুলের মেঝো চাচা আব্দুল আজিজের কাছে তার শ্বশুর রফি গাজী মোবাইল করে জানায় তোমাদের ছেলে আমার বাড়িতে আসা নিষেদ ছিলো, এর পরে কেন আসলো ? যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে আমরা দায়ী থাকিব না। তখন চাচা আব্দুল আজিজ বলে সে তো চোর ডাকাত না, কেন আটকিয়ে রাখবে আমাদের ছেলেকে ছেলেকে ছেড়ে দাও বলে মোবাইল ফোন কেটে দিয়ে তার বড় ভাই আব্দুল মজিদের কাছে বিয়টি জানায়।
তখন শরিফুলের পিতা শোভনালীর বসুখালী গ্রামে আত্মীয়ের থাকা অবস্থায় তার ছোট ছেলে আরিফুলের কাছে মোবাইল ফোন করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। রাতে শরিফুল ইসলামের মা ছেলে বাড়িতে না আসায় আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে খোজাখুজি করে সন্ধান না পেয়ে ছেলের শ্বশুর বাড়ীতে আছে জানতে পেরে সেখানে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে শ্বশুর বলে তোমাদের ছেলে আসছিল বাড়ী চলে গেছে। সে ওই রাতে বাড়ী না আসায় মা আবারও খোজ খবর করতে করতে ভোরে ছেলের চিংড়ী ঘেরের বাসায় যেয়ে ডাকাডাকি করার এক পর্যায় দেখতে পায় ঘেরের বাসার আড়ায় সাথে দড়ি দিয়ে ঝুলতে দেখে চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে। তখন আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দড়ি কেটে দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।
তৎক্ষনে সে মারাগেছে বলে তারা নিশ্চিত হয়। ঘটনার দিন সকাল ১০টার সময় মৃত শফিকুলের পিতা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবীরের নির্দেশে এসআই আজিজুল ইসলাম সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শেষ করে নিহত যুবক শরিফুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকে জানান মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত চলছে ও ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে মৃত্যুর আসল রহস্য। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত শরিফুলের পরিবার অভিযোগ করে এ প্রতিবেদকে জানান আমাদের ছেলেকে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শরিফুলের চিংড়ী ঘেরে বাসার আড়ার সাথে দড়ি দিয়ে তাকে ঝুলিয়ে দিয়েছে। অপর দিকে শরিফুলের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম রফি গাজি বলেন জামাই তার চিংড়ীঘেরে গলায় দড়ি দিয়ে আতœহত্যা করেছে। অথচ জামাইয়ের পিতামাতা তাদের ছেলের মৃত্যুর জন্য আমাদেরকে সম্পূর্ন মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে । এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘটন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ও আশাশুনি থানা ওসির আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
s
