হোম আন্তর্জাতিক আমিরাতকে ‘ধ্বংসের’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

আমিরাতকে ‘ধ্বংসের’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 37 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ পরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরানের এমন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান রিয়াদ ও ওমানের কাছে ইঙ্গিত দেয় যে, তারা আমিরাতকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করাই ছিল ইরানের কৌশল।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি জোট ওপেক থেকে আমিরাতের সরে আসার ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বদলে পারস্পরিক সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি সৌদি আরবকে জানায় যে তারা আমিরাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও তেহরান ও রিয়াদের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কথাবার্তা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ আরব দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে ইরান কৌশলগতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও আমিরাত উভয় দেশই নিজ নিজ প্রভাব বিস্তারে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমিরাতকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য এবং এসব দেশ নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।

চলমান এই উত্তেজনা ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইসরাইল আমিরাতকে উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সংঘাত থেকে পিছিয়ে যায়, তাহলে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আমিরাত আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এমনকি দেশটির নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিতও দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনা শুধু নিরাপত্তা ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন