মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের (এক সময় সৌদী প্রবাসী) মৃত জামাল উদ্দিনের দুই মেয়ে রুনা আক্তার (২৯) ও লাইলা আক্তার (২৭) বাবা- ভাই না থাকায় গত ২৭ বছর ধরে রয়েছেন পিতৃ ভিটা ছাড়া। বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের অন্যত্র সংসার হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন আত্নীয়- স্বজনদের বাড়িতে থেকে থেকে জীবনের দীর্ঘ ২৭টি বছর পার করেছেন তারা। পিতৃ ভিটা ও বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে ওই দুই মেয়ে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জানা যায়, রুনা ও লাইলা আক্তারের দাদী আনুয়ারা খাতুন এ নিয়ে কথা বলায় আলাল উদ্দিন তার মায়ের ওপর একাধিকবার চালায় শারিরীক নির্যাতন।
অভিযোগ পত্র, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র বয়স্কভাতা প্রাপ্ত আনুয়ারা খাতুন স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট ছেলে সৌদী প্রবাসী জামাল উদ্দিনের পরিবারের সাথে থাকতেন। জামাল উদ্দিনের কোন ছেলে সন্তান নেই। ১৯৯৪ সালে প্রবাসে থাকা কালিন জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হলে বড় ছেলে আলাল উদ্দিন জামাল উদ্দিনের পরিবারের বিদেশ থেকে আসা ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে নেন।
এ ছাড়া প্রাপ্ত হিস্যা মতে রুনা ও লাইলা আক্তারের ৩৭ শতাংশ জায়গা অানুয়ারা খাতুন হেবানামা দলিলে সম্পাদন করে দিলে বিভিন্ন সময় আলাল উদ্দিন তার মা আনুয়ারা খাতুন ও তার ছোট ভাইয়ের মেয়ে রুনা- লাইলাকে অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকেন।
এলাকাবাসীকে নির্যাতনের বিষয়ে জানালে আলাল উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে জামালের পরিবারের দখলীয় সম্পত্তি জবরদখল ও লাগানো গাছপালা কেটে ফেলে দেয়। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানীও করে।
অবশেষে নিরুপায় হয়ে আলাল উদ্দিনের মা আনুয়ারা খাতুন গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
আনুয়ারা খাতুন বলেন, আমার ছোট ছেলে জামাল উদ্দিন মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে আলাল উদ্দিন সকল সম্পত্তি দখল করে নিয়ে যায়। আমি প্রতিবাদ করলে ছেলে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে আমি ইউএনও আপার কাছে বিচার দিছি। আমি বড় ছেলে আলাল উদ্দিনের বিচার চাই।
রুনা আক্তার বলেন, আজ থেকে ২৭ বছর আগে বিদেশে আমার বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। সে সময় বিদেশ থেকে পাঠানো ৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে আমার বড় চাচা আত্নসাৎ করে নেয়। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার চাচা আমার মা-কে ফুপার কাছে বিয়ে দিয়ে আমাদের সকল সম্পত্তি দখল করে নেয়। আমার বাবার ক্রয় করা সম্পত্তিও দখল করে নেয় আমার চাচা।
এ ব্যাপারে লায়লা আক্তার বলেন, চাচা বলছে ১ শতাংশ সম্পদও আমাদের দিবোনা। তিনি আমাদের সম্পদ মামলা করে নিতে বলছেন।
অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এরা এর আগেও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলো। ৪ বছর মামলা চালিয়ে রায় গুলো আমি পেয়েছি। আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমি প্রমাণ দিতে পারবো। তাদের মাল আত্নসাৎ করে থাকলে তারা তাদের প্রমাণ দেখাক। তারা তাদের অধীনে সম্পত্তি নিয়ে গিয়ে বন্ধক দিয়ে দিয়েছে। মায়ের অংশ ৩ জনের কাছে বিক্রি করেছে। মাকে বর্তমানে আমার ছোট বোনে পালে। আমার মা আধা পাগল, মাজারে মাজারে ঘোরে।
এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী সাংবাদিকদের বলেন, এ অভিযোগের ফাইলটি আমার দেখা হয়নি। ফাইলটি আমি দেখছি।
