হোম আন্তর্জাতিক পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারম, ডেইলি মেইলের দাবি

পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারম, ডেইলি মেইলের দাবি

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 38 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তীব্র রাজনৈতিক সংকট, মন্ত্রিসভায় একের পর এক বিদ্রোহ আর দলের অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতার মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৬ মে) যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি যে আর ডাউনিং স্ট্রিটের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পেরেছেন স্টারমার। মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘কিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে ডাউনিং স্ট্রিটের এই বিশৃঙ্খলা আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি কেবল সসম্মানে এবং নিজের পছন্দমতো উপায়ে বিদায় নিতে চান। খুব শিগগির তিনি পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করবেন।’

তবে কবে নাগাদ এই ঘোষণা আসবে, তা নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কেউ কেউ তাকে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে ‘মেকারফিল্ড’ আসনের উপনির্বাচনের প্রথম দফার জনমত জরিপের ফল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। স্টারমারের সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ চেষ্টা করতে চাপ দিচ্ছেন।

তবে মন্ত্রিসভায় স্টারমারের এক সমর্থক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী উপনির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না। কারণ সেটি তার জন্য চরম ব্যক্তিগত অবমাননার কারণ হতে পারে।

এদিকে ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এই উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে (সংসদে) ফেরার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বার্নহামের শিবিরের ধারণা, আগামী ১৮ জুনের উপনির্বাচনের আগে স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলে তাদের নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল কিছুটা ভেস্তে যেতে পারে। কারণ তারা প্রচারণায় ভোটারদের বলতে চান, ‘বার্নহামকে ভোট দিন, তিনি লন্ডনে গিয়ে স্টারমারকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে টেনে নামাবেন।’

গত এক সপ্তাহে ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরের পরিবেশ ছিল চরম উত্তেজনাকর। গত সোমবার যখন সরকারের কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী একযোগে পদত্যাগ করেন, তখনই স্টারমার বুঝতে পারেন যে তাকে বিদায় নিতে হবে। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক ব্রিফিং স্টারমারকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

সূত্র জানায়, স্টারমার অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ‘আমি সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করছি, আর তারা সবাই পেছন থেকে আমার পিঠে ছুরিকাঘাত করছে।’

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং স্টারমারের সাবেক প্রধান পরিকল্পনাকারী জশ সাইমন্সের কাছ থেকে। সাইমন্স ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমসে এক নিবন্ধে সরাসরি লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না প্রধানমন্ত্রী এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তিনি দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছেন। একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত।’

ডাউনিং স্ট্রিটের এক সমর্থক জানিয়েছেন, অনেক মন্ত্রী মুখে স্টারমারকে সমর্থনের কথা বললেও গোপনে তাদের বিশেষ উপদেষ্টাদের পাঠাচ্ছেন এমপিদের কাছে—যাতে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন। অনেকে আবার নতুন সরকারে নিজেদের মন্ত্রীত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে পদ ভাগাভাগির চুক্তি করাও শুরু করে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার স্টারমারের বিদায় নিশ্চিত করে দেয় দুটি বড় ঘটনা। প্রথমত, চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলার সময় ‘প্রধানমন্ত্রী ও আমি’ বলার পরিবর্তে বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেন। মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মতে, এর মাধ্যমে চ্যান্সেলর নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এর পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে জশ সাইমন্স মেকারফিল্ড আসনটি ছেড়ে দেন, যাতে অ্যান্ডি বার্নহাম সেখানে নির্বাচন করে সংসদে ফিরে আসতে পারেন। ডাউনিং স্ট্রিট বার্নহামের এই ফিরে আসা ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করলেও দলের ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল তিন ঘণ্টার এক নাটকীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বার্নহামের মনোনয়ন নিশ্চিত করে স্টারমার শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন।

সূত্র: ডেইলি মেইল

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন