হোম খুলনানড়াইল নড়াইলে কৃষি ব্যাংকের ৮৭ লাখ টাকার পে-অর্ডার জালিয়াতি, কর্মকর্তা বরখাস্ত, মামলা দায়ের

নড়াইলে কৃষি ব্যাংকের ৮৭ লাখ টাকার পে-অর্ডার জালিয়াতি, কর্মকর্তা বরখাস্ত, মামলা দায়ের

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 47 ভিউজ

নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইলের কালিয়ায় কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পেঅর্ডার চুরি জালিয়াতির মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাত চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী। এর আগে গত বুধবার রাতে কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল বাদী হয়ে কালিয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামি মো. এনামুল কবির ওরফে ইমন (৩৮) যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুন্দশী মালোপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাতক্ষীরা মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এনামুল কবির চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কালিয়া কৃষি ব্যাংকে দ্বিতীয় কর্মকর্তা (সেকেন্ড অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জিম্মায় ননএমআইসিআর পেঅর্ডারসহ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দস্তাবেজ সংরক্ষিত ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিস শুরুর আগেই তিনি কৌশলে শাখায় প্রবেশ করেন এবং একটি ননএমআইসিআর পেঅর্ডারের পাতা (নম্বর০৭২৬৯৯৯) সরিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে শাখার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর এই চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।

এজাহারে আরও বলা হয়, চুরি হওয়া ওই পেঅর্ডারটি ব্যাংকের বাইরে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় জালিয়াত চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে সেটিতে ব্যাংকের শ্যামলী শাখার নাম, কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সিল জাল করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পেঅর্ডারটি নগদায়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঢাকার স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ে পাঠানো হলে কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর প্রধান কার্যালয় থেকে কালিয়া শাখার কাছে এই পেঅর্ডারের সত্যতা জানতে চাওয়া হলে জালিয়াতির পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, শুরুতে এনামুল কবির এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও সিসিটিভি ফুটেজ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ দেখানোর পর তিনি নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। তবে এই জালিয়াতি চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

অবশ্য অভিযুক্ত এনামুল কবির তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেন, দস্তাবেজটি আমার জিম্মায় ছিল এবং সেটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু আমি কোনো ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নই।

বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন