হোম আন্তর্জাতিক কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা

কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 46 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কলকাতার হাইকোর্টে সকলকে চমকে দিয়ে আইনজীবীর কালো শামলা গায়ে উপস্থিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দলের হয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করেন তিনি।

সকাল সোয়া দশটা নাগাদ আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সওয়াল করার অনুমতি চান মমতা। তিনি জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি একজন আইনজীবী এবং সেই হিসেবেই সওয়াল করতে চান।

এরপরেই উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন তিনি। বলেন, ‘এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, বাংলা। ফলে বাংলার মানুষকে বাঁচান।’

আদালতের ভেতরে সওয়াল-জবাব চললেও বাইরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। শুনানি শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বের হচ্ছিলেন, তখন একদল আইনজীবী ও উপস্থিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্রায় ৬ জন নিহত এবং একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি অফিস আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি সরকার কড়া হাতে ব্যবস্থা নিলেও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।

মমতা আদালতে দাবি করেন, ৯২ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নবদম্পতিদের ঘরছাড়া করা হচ্ছে এবং তপশিলি জাতি ও সংখ্যালঘুদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি জানান যে বহু মানুষ সরাসরি পুলিশের কাছে যেতে না পেরে অনলাইনে অভিযোগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে কাতর আবেদন জানান।

একই মামলায় সিপিআইএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন এবং নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে হকারদের দোকান ভাঙার প্রতিবাদ জানান।

রাজ্য পুলিশের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী দাবি করেন,পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই মামলাটিকে পুরোনো ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলার সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর প্রস্তাব দেন এবং আদালতকে জানান যে পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আদালত চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বেরোনোর সমস্যার কথা জানান। মমতা প্রধান বিচারপতিকে বলেন, ‘দেখুন বাইরের অবস্থাটা। কী হচ্ছে! এখান থেকে বেরনোই মুশকিল।’

শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যাপক তৎপরতায় এবং বিক্ষোভের মুখে প্রতি পদক্ষেপে বাধার সম্মুখীন হয়েও তিনি এলাকা ছাড়তে সক্ষম হন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন