খেলাধূলা ডেস্ক :
জমে উঠেছে গলে টেস্ট। ৩৪২ রানের বড় লক্ষ্য বেধে দিয়েও স্বস্তিতে নেই শ্রীলঙ্কা। সেঞ্চুরিয়ান আব্দুল্লাহ শফিকের ব্যাটে জয়ের পথে পাকিস্তান। এ ম্যাচ জিততে পারলে, গলের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়বেন বাবররা।
এ ভেন্যুতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসটা ছিল ঠিক ৩০০ রানের। যে রেকর্ড আবার পাকিস্তানেরই। ২০১২ সালে ৫১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তাদের ইনিংস থেমেছিল ২০৯ রানে। গলেতে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার। ২০১৯ সালের আগস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তারা জিতেছিল ৬ উইকেটের ব্যবধানে।
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২২২ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাবর আজমদের প্রয়োজন আর মাত্র ১২০ রান।
ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক ২৮৯ বল মোকাবিলায় অপরাজিত আছেন ১১২ রানে। ৫ বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন একটি ওভার বাউন্ডারি। তাকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১২ বল মোকাবিলায় তিনি অপরাজিত আছেন ৭ রানে।
এর আগে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে শফিকের সঙ্গে ৮৭ রান করেন ইমাম-উল-হক। তাকে সাজঘরে ফেরান রমেশ মেন্ডিস। ৭৩ বল মোকাবিলায় ৩ বাউন্ডারিতে ৩৫ রান করে ইমাম। দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট হাতে নামা আজহার আলীকে ক্রিজে স্থায়ী হতে দেননি প্রভাত জয়াসুরিয়া। ৩২ বল মোকাবিলায় তিনি করেন মাত্র ৬ রান।
এরপর ক্রিজে এসে শফিজের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়ে তোলেন অধিনায়ক বাবর আজম। তাকেও সাজঘরের পথ দেখান প্রভাত। বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে অবশ্য ১০৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন বাবর। ৪ চার ও এক ছক্কার ইনিংসটির মাধ্যমে তিনি স্পর্শ করেছেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে তিন হাজার রানের মাইলফলক। ৫৩.৭৮ গড়ে ৭৩ ইনিংসে বর্তমানে তার রান সংখ্যা ৩০২৫। দিনের বাকি সময়টায় অবশ্য আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি শফিক-রিজওয়ান জুটি। শফিক নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় শতক হাঁকিয়ে অপরাজিত আছেন ক্রিজে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২২ রানে অলআউট হওয়া শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে স্কোরকার্ডে যোগ করে ৩৩৭ রান। প্রথম ইনিংসে ৭৬ রান করা দিনেশ চান্দিমাল দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ৯৪ রানের ইনিংস খেলে। তাতে পাকিস্তানের সামলে লক্ষ্যটা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৪২ রানের। প্রথম ইনিংসে প্রভাত জয়াসুরিয়ার ঘূর্ণিতে মাত্র ২১৮ রানে কুপোকাত হয়ে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য যে লক্ষ্যটা ছিল প্রায় পাহাড়সম।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে শফিকরা খুব বেশি সুযোগ দেননি প্রভাতকে। যদিও প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া প্রভাত পরের ইনিংসে ইতোমধ্যে শিকার করেছেন ২ উইকেট। তবে মাঠে পাকিস্তানি ব্যাটারদের আধিপত্য বলছে, শেষ দিনে জয়ের পাল্লা ভারি থাকবে বাবর আজমদেরই।
