আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
কিয়েভে মস্কোর বোমা হামলা এবং বন্দরনগরী মারিউপোলে নতুন করে হামলার পরও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ইউক্রেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যখন তিন সপ্তাহে গড়িয়েছে তখন একদিকে যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়ছে, তেমনি সংকট সমাধানে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতাও। দফায় দফায় বৈঠক করছে মস্কো ও কিয়েভ। তবে এসব কিছুর মধ্য দিয়ে চরম অসহায় এক সময় পার করছেন সাধারণ ইউক্রেনীয়রা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী চলমান এই লড়াইয়ের মধ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়া ইউক্রেনীয়দের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
সংকট সমাধানে কিয়েভ-মস্কোর প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ভার্চুয়ালি পুনরায় আলোচনায় বসার পর ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার (১৬ মার্চ) বলেছেন, রাশিয়ার দাবিগুলো ‘আরও বাস্তবসম্মত’ হয়ে উঠছে। বুধবার আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেছেন, সব কিছুর জন্যই চেষ্টা আর ধৈর্য প্রয়োজন। যেকোনো যুদ্ধের সমাপ্তি হয় সমঝোতার মাধ্যমেই। তবে বুধবার (১৬ মার্চ) মার্কিন কংগ্রেসে ভার্চুয়াল ভাষণ দেওয়ার আগে রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার জন্য মিত্রদের কাছে আরও বেশি অস্ত্র এবং মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাশিয়ান বাহিনী নতুন করে ইউক্রেনের আর কোনো এলাকা দখল করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন শহরে তাদের ভারী গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এখনই কিছু অনুমান করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত আলোচনা, সমঝোতার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার চতুর্থ দফায় বৈঠকে বসেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা। তবে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ‘কৌশলগত বিরতির’ মধ্য দিয়ে এদিন শেষ হয় আলোচনা। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) পুনরায় তা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সমঝোতার কোনো আভাস মেলেনি। চতুর্থ দফায় তৃতীয় দিনের মতো বুধবার (১৬ মার্চ) আবারও বসার কথা রয়েছে দুপক্ষের।
