হোম খুলনানড়াইল বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 90 ভিউজ

নড়াইল প্রতিনিধি:

বিয়ের দীর্ঘ এক দশক পর সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি। ঘর আলো করে একসঙ্গে এলো সাতটি সন্তান। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো না কয়েক ঘণ্টাও। একে একে নিভে গেল সাতটি প্রাণের প্রদীপ। নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালুখালী গ্রামের ইজিবাইক চালক মহসিন মোল্যা গৃহবধূ সালমা দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পর এই প্রথম সন্তান হওয়ার খবর আসে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে ছয়টি সন্তানের কথা জানা গেলেও বাস্তবে জন্ম নেয় সাতটি নবজাতক যার মধ্যে চারটি ছেলে তিনটি মেয়ে। বৃহস্পতিবার ( মে) বেলা ১১টার দিকে সাতটি সন্তানকেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে দ্রুত যশোরে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর বুধবার রাতে একে একে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস বয়সে (অপরিণত অবস্থায়) ভূমিষ্ঠ হওয়ায় নবজাতকদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সন্তানের দাদা আব্দুল লতিফ মোল্যা জানান আমার ছেলে সৌদি আরবে থাকত। তিন বছর আগে দেশে এসে ইজিবাইক চালানো শুরু করে। ১০ বছর পর নাতিনদের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। কিন্তু একসঙ্গে সাতজন এসেও কেউ থাকল না। এই কষ্ট রাখার জায়গা নেই।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বলেন,সন্তানগুলো অত্যন্ত অপরিপক্ক অবস্থায় (Preterm birth) ভূমিষ্ঠ হয়েছে,প্রসবের আগেই মায়ের গর্ভফুলের পানি ভেঙে গিয়েছিল,জন্মের সময় প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল মাত্র ২০০ গ্রাম করে,ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় সবার হার্টবিট থাকলেও ওজন ফুসফুসের গঠন সম্পন্ন না হওয়ায় তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সেলিম জানান, মহসিনের স্ত্রীর সাতটি সন্তান হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ একনজর দেখার জন্য ভিড় জমায়। কিন্তু সন্তানদের মৃত্যুর খবরে সবার মধ্যে এখন বিষাদ কাজ করছে।

বর্তমানে নবজাতকদের মা সালমা বেগম যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গ্রামবাসী স্বজনরা এখন তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন