খেলাধূলা ডেস্ক :
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দহরম-মহরম থাকায় বিপাকে পড়েছেন রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ। ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসনের পর একঘরে রাশিয়া। আর পুতিনের কাছের লোক আব্রামোভিচ চাপের মুখে ছেড়েছেন ইংলিশ ক্লাব চেলসির মালিকানা। তার সব সম্পদ জব্দ করায় বিক্রি করতে পারছেন না ক্লাবের মালিকানাও। এরই মধ্যে পাওয়া গেল নতুন খবর।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রাশিয়ান অলিগার্করা (রুশ ধনকুবেরদের সাধারণত অলিগার্ক বলা হয়) লা লিগার ক্লাব বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদ কিনে নিতে চাচ্ছে।
রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের মালিকানাধীন ইংলিশ ক্লাব চেলসি রাজ করেছে ইপিএল ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। এছাড়া আরেক রুশ ব্যবসায়ী ও পুতিনের সবচেয়ে কাছের অলিগার্কদের একজন হিসেবে পরিচিত আলিশার ওসমানোভ ২০০৭ সালেই ফুটবলে লগ্নি করেছিলেন। আর্সেনালের শেয়ার কিনেছিলেন তিনি। যদিও ১১ বছর পর সেই মালিকানা বিক্রি করে এভারটনে বিনিয়োগ করেন।
২০১৯ সালে ওসমানোভের আরেক কোম্পানি মেগাফোনও এভারটনের জার্সির স্পন্সর হয়েছিল। যদিও ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর ক্লাবটি ওসমানোভের সঙ্গে সব চুক্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। একই পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যও। যদিও এই নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে জানা যাচ্ছে, ওসমানোভ নতুন করে লা লিগার ক্লাব বার্সেলোনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের (আইএসএএফ) সভাপতি ও রুশ নাগরিক ভ্লাদিমির লিসিন এরই মধ্যে তার স্প্যানিশ বন্ধুকে অনুরোধ করেছেন লা লিগায় তার জন্য ক্লাব খুঁজে দিতে, যেখানে তিনি বিনিয়োগ করতে পারবেন। এমনকী ভ্লাদিমির লিসিন রিয়াল মাদ্রিদ নিয়েও নিজের আগ্রহের কথা লুকাননি। তিনি তার বন্ধুকে বলেছেন, রিয়াল মাদ্রিদ কিনতে খরচ কত পড়বে?
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাজনৈতিক কৌশলী ওসমানোভের দেশটির ফেসবুক টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে। যদিও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের চাপে এরই মধ্যে নিজের ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।
অলিগার্ক কারা?
অলিগার্ক শব্দটির অনেক পুরনো ইতিহাস রয়েছে। প্রথাগত অর্থে অলিগার্কি ধারার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী এমন যে কাউকেই অলিগার্ক বলা হয়। কিন্তু আজকের যুগে কিছু রাশিয়ান ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরই অলিগার্ক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর যাদের উত্থান হয়েছে। যারা খুবই ধনাঢ্য, দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এবং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যাদের চলাফেরা, তাদেরই রাশিয়ায় অলিগার্ক বলা হয়।
