নিজস্ব প্রতিনিধি :
আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের সহজ সরল মানুষদেরকে বুঝিয়ে একটি প্রতারক চক্র গত ৫ বছর আগে “কলিমাখালি হিজলিয়া পূর্বপাড়া সমবায় সমিতি” নামের একটি এনজিও অফিস খুলে সদস্যদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত এক বছর অফিস বন্ধ করে দিয়েছে তারা। উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে হিজলিয়া বাসষ্ট্যান্ডে ঐ সমিতির অফিস নিয়ে এলাকার ১০/১৫ জন প্রতারক মিলে গ্রাহক সংগ্রহ শুরু করে।
হিজলিয়া, কলিমাখালী, নাছিমাবাদসহ এ দুই ইউনিয়নের তাদের কর্মীরা গিয়ে সদস্য ভর্তি করাতে থাকে। প্রত্যেক সদস্যের নিকট থেকে বিভিন্ন কৌশলে তারা বিভিন্ন অংকের সঞ্চয়ের টাকা জমা নেন। এর ভিতর থেকে কয়েকজন সদস্যকে তারা অল্প পরিমানে ঋণ ও প্রদান করেন। এ দেখে বড় অংকের টাকা ঋণ পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে এলাকার সহজ সরল মানুষ আরও বেশী টাকা সঞ্চয় করতে শুরু করেন।
কিন্তু কৌশলে তাদের ঋণ দেওয়ার সময়ের আগেই ঐ ভূয়া সমিতি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে অধ্যবধি পর্যন্ত ঋণ দেওয়া তো দূরের কথা তাদের অধিকাংশের সঞ্চয়ের টাকা ও ফেরত দেওয়া হয়নি। গাজিপুর গ্রামের হাবিবুল্যাহ’র পুত্র হাসান, হিজলিয়া গ্রামের করিম সরদার, আলমগীর, মুনজুরুল গাজী, সাহানুর গাজী, মহাসিন গাজী, আজিজ গাজিসহ বিভিন্ন গ্রামের শত শত মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিয়ে সঞ্চয় জমা করেছেন। এখন তারা টাকা খুইয়ে হায় হায় করছেন। প্রতারিত গ্রাহকরা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি আঃ করিমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ঐ সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এখন আমি আর নাই। আমার মালিকানা সদস্যপদটি ফারুক নামের একজনকে দিয়ে দিয়েছি। সমিতির সহ-সভাপতি আঃ মজিদ বলেন, আমাদের সমিতির রেজিষ্ট্রেশন আছে সমবায় অফিসের। কিন্তু তারপর বলে না আমাদের সমিতির রেজিষ্ট্রেশন বিআরডিবির মাধমে নেওয়া। পাশ বইতে তারা রেজিঃ নং-০১ (আশাশুনি) ছাপিয়েছে। কোন সাল তারিখ নেই।
কিন্তু সমবায় অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, তারা ঐ নামে কোন সমিতির রেজিষ্ট্রেশন দেননি। এছাড়াও বিআরডিবি কোন সমিতির রেজিষ্ট্রেশনই করে না। স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, ঐ নামে কোন এনজিও আছে কি না তা আমার জানা নাই। ইউপি সদস্য আঃ রব বলেন, এভাবে ভুয়া রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার নিয়ে এনজিও চালায়, এটা খুব দুঃখ জনক কথা। এ ব্যাপারে প্রতারিত সদস্যরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
