খেলাধূলা ডেস্ক :
ভারতকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফুটবলীয় কার্যক্রমে ‘তৃতীয় পক্ষের প্রভাব’ খাটানোর অভিযোগে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) এই শাস্তি দিয়েছে তারা। এদিকে, এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ফুটবলের জন্য জোর ধাক্কা হলেও এতে ইতিবাচক দিকও দেখছেন খোদ দেশটির সাবেক অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া। তার মতে, ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
ফিফার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ভাইচুং দেশটির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভারতীয় ফুটবলকে নির্বাসিত করার ঘোষণা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। তবে সেই সঙ্গে এর একটা ভালো দিকও রয়েছে। ফুটবল প্রশাসনকে আবার ঠিক পথে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছি আমরা। তার জন্য ফুটবল ফেডারেশন, সব রাজ্যের ফুটবল সংস্থাগুলোকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’
ফিফার সিদ্ধান্তে হতবাক ভারতের সাবেক ফুটবলার শাবির আলিও। তিনি বলেন, ভারতীয় ফুটবলের জন্য খুব খারাপ হলো। আশা করছি এই নির্বাসন তাড়াতাড়ি উঠে যাবে। ভারতে নারীদের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপ হওয়ার কথা। আশা করি সেই প্রতিযোগিতা হবে।
মাঠের পারফরম্যান্সে ভালোই করছিল ভারত। এই মুহূর্তে ফিফা র্যাংকিংয়ে ভারতের অবস্থান ১০৬তম। র্যাংকিংয়ের মাঝারি সারির দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলছিল। কিন্তু গেল কদিনে ভারতের ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) বেশ টানাপড়েনের মধ্য দিয়েই যাচ্ছিল। ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়া এবং এরপরের নির্বাচন নিয়েই যত ঝামেলা চলছিল।
জানা যায়, মেয়াদ ফুরিয়ে যাবার পরও অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সাবেক সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের গদি দখল করে থাকা নিয়েই মূলত ভারতীয় ফুটবলে সংকটের শুরু। ২০০৮ সালে প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর বদলে এআইএফএফের প্রধান নির্বাচিত হন প্যাটেল। ভারতের ফেডারেশন থেকে খুব অল্প সময়েই এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হন, সদস্য হয়েছেন ফিফা কাউন্সিলের।
নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদেই ফেডারেশনের প্রধান নির্বাচিত হতে পারতেন। সে অনুযায়ী প্যাটেলের মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। তবে এর মধ্যে নতুন নির্বাচন দেয়া হয়নি। নতুন নির্বাচন হলেও সেটিতে আর প্যাটেলের প্রার্থিতার আবেদনের সুযোগ নেই। কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় প্যাটেলই চেয়ারে থেকে গেছেন।
প্রফুল প্যাটেল বেআইনিভাবে ফেডারেশনের শীর্ষ পদ দখলে রেখেছেন এই অভিযোগে মামলা হলে ভারতীয় ফুটবলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। চলতি বছরের মে মাসে দেশটির শীর্ষ আদালত ফেডারেশনের কার্যকর কমিটিকে ভেঙে দিয়ে ভারতীয় ফুটবলের দায়িত্ব দেয় তিন সদস্যের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সকে (সিওএ)। এছাড়া যত দ্রুত সম্ভব ফেডারেশনের পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশও দেন আদালত।
কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ) দায়িত্ব নেয়ার পরও ফেডারেশন থেকে প্রফুল প্যাটেলের ভূত তাড়াতে পারেনি। সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও পর্দার আড়াল থেকে ফেডারেশনের কাজকর্মে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করে বসে সিওএ। সব মিলিয়ে ঘোর সংকটে তলিয়ে যেতে থাকে দেশটির ফুটবল।
কয়েক মাস আগে এআইএফএফের সংবিধান সংশোধন করে দ্রুত নির্বাচন করার জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত কমিটি এরই মধ্যে দ্রুত ফেডারেশনের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তৎপর হয়েছে। এ নির্বাচন প্রক্রিয়াটি আগামী ২৮ আগস্ট শুরু করার কথা।
কিন্তু এত জটিলতা পছন্দ হয়নি ফিফার। ফুটবল ফেডারেশনের সরকারের হস্তক্ষেপ ফিফা কখনোই মেনে নেয় না, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ান দেশগুলোকে ফেডারেশনে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ফিফার নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়েছে। এবার ভারতকেও নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
