বাণিজ্য ডেস্ক :
অস্থির চালের বাজার। লাগামহীনভাবে বাড়ছে দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরে দুই দফায় চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৭ থেকে ১০ টাকা। ডলার ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অধিক মুনাফা করছেন মিলাররা, এমন অভিযোগ করছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।
সরকারের নেয়া কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। দিনাজপুরে চালের বড় পাইকারি মার্কেট বাহাদুর বাজারে দুই দফায় চালের দাম বস্তায় বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অস্বাভাবিক চড়া দামে চাল কিনতে হিমশিম অবস্থা ক্রেতাদের। সরবরাহ নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরাও।
দিনাজপুরে প্রতি কেজি মিনিকেটের দাম ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭৩ টাকা, ব্রি-২৯ ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ টাকা, ব্রি-২৮ ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ টাকা, গুটিস্বর্ণ ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ টাকা, সুমন স্বর্ণ ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮২ টাকা, বাসমতি ৭৫ থেকে বেড়ে ৮২ টাকা এবং চিনিগুঁড়া ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকায় উঠে গেছে।
ঊর্ধ্বমুখী চালের দামে নাভিশ্বাস এক ক্রেতা বলেন, চালের দাম প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। মানুষ আর বাঁচবে না। খেতে তো হবেই।
এদিকে খুচরা ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের অভিযোগ, ডলার ও তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে অধিক মুনাফা করছেন মিলাররা। তারা বলেন, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কিছু সুবিধাভোগী মিল মালিকরা আজ জনগণের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছে।
অন্যদিকে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে মিল মালিক গ্রুপের নেতারা একই অজুহাত দেখালেন। মিলাররা চাল সরবরাহ করছেন না -এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিনাজপুর চলকল গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আজ দিনাজপুরে কতগুলো চালের গাড়ি লোড হচ্ছে, এটি পর্যালোচনা করে দেখলেই বোঝা যাবে যে এ অভিযোগ ভুল। আমার মনে হয় এখানে যে সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়। তা আসলে সঠিক না।’
উল্লেখ্য, জেলায় হটফ্লু, মেজর, অটো ও হাসকিং মিলের সংখ্যা মোট ২ হাজার ১০০। এসব মিল থেকে প্রতিদিন ২ শতাধিক ট্রাকে চাল সরবরাহ করা হয় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায়।
