আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
নতুন একটি নৌ-মতবাদে সই করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে রাশিয়ার প্রধান নৌপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। আর আর্কটিক ও কৃষ্ণসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোয় রাশিয়ার নৌ-উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
রোববার (৩১ জুলাই) রাশিয়ার নৌ দিবসে সেন্ট পিটার্সবার্গে বক্তৃতা দেন পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গ হচ্ছে রুশ সাম্রাজ্যের সাবেক রাজধানী। জার পিটার দ্য গ্রেট এখানে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিশ্বের বুকে রাশিয়ার মর্যাদা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় পিটার দ্য গ্রেটেরও তারিফ করেন পুতিন। নৌবাহিনীর তৎপরতা পরিদর্শনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। রাশিয়ার জিরকন হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করে পুতিন বলেন, যেকোনো আগ্রাসি বাহিনীকে পরাজিত করার ক্ষমতা রাশিয়ার আছে।
ভাষণ দেয়ার আগে ৫৫ পাতার নৌ-মতবাদে সই করেন পুতিন। এতে রুশ নৌবাহিনীর বিশাল কৌশলগত লক্ষ্যমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারিত সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নতুন মতবাদে প্রধান হুমকি হিসেবে বিশ্বের সমুদ্রগুলোতে আধিপত্য চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নৌনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ন্যাটোর সামরিক জোট রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি চলে আসছে, যা রাশিয়ার অন্যতম শঙ্কার কারণ।
নৌ-মতবাদে বলা হয়, যদি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ারের মতো সফট পাওয়ারগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে, তবে বিশ্বের সমুদ্রগুলোতে নিজের সামরিক শক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করবে রাশিয়া।
নিজের বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেননি পুতিন। কিন্তু কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থান বাড়াতেই বেশি জোর দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া আর্কটিক মহাসাগরের কথা বলা হয়েছে। আগেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে, মহাসাগরটিকে সামরিকায়ন করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। কৌশলগতভাবে আর্কটিক মহাসাগর রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩৭ হাজার ৬৫০ কিলোমিটারের বিশাল উপকূল রেখা রাশিয়ার। জাপান সাগর থেকে শ্বেতসাগর, কৃষ্ণসাগর থেকে কাসপিয়ান সাগরজুড়ে এই উপকূলরেখা বিস্তৃত।
