হোম জাতীয় পদ্মা সেতু: উন্মাদনা কমবে, বাড়বে প্রাপ্তির হিসাব

জাতীয় ডেস্ক :

একটি সেতু স্বপ্ন-সাধনার স্মারক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বপ্নদুয়ার খুলে দেয়ার পর, উচ্ছ্বাস-আবেগ-গর্বকে ছাপিয়ে, এখন হার না মানা বাঙালির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পদ্মা সেতু। দিন যাবে, উন্মাদনা কমবে; বাড়বে প্রাপ্তির হিসাব। এই সেতু স্বপ্ন সংযোগ হয়ে প্রান্তিক মানুষকে স্পর্শ করবে এমটাই এখন প্রত্যাশা।

একটি স্বপ্ন, কোটি মানুষ। জয় নয়, বিজয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হেরে যায়নি কখনো, একাত্তর কিংবা আরও অতীতের বাংলা। হানা দিয়েছে দস্যুর দল। হেরে যেতে যেতে লড়াকু বাঙালি জিতে নিয়েছে সব বৈরিতা। ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে করতে মানুষের বিজয় হয়েছে।

একাত্তর যেন কাছে এলো। বারবার জয়ী হবে বাংলা, তার জন্যই একাত্তরের প্রাণপাত। হাসছে বাঙালি, কাঁদছে বাঙালি। একাত্তর বড় আপন হলো আজ।

ঐতিহাসিক পদ্মার বুক চিরে কংক্রিটের এই স্বপ্ন-সাধনা। দ্বীপের মতো দুই ভূমিকে বেঁধে দিল একই মোহনায়।

এই সেতু কেবল স্বপ্ন নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। কারণটা জানা আছে, ফেরিঘাটে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সন্তানের। যারা বাবা কিংবা মাকে নিয়ে নদীর দূরত্বে অপেক্ষায় যখন কমেছে মৃত্যুর দূরত্ব।

যে নদীর সঙ্গে ছিল আবহমান বাঙলির দূরত্ব আর অপেক্ষার যোগ। সেই নদীর বুকে থোকা থোকা ফুল হয়ে, সুগন্ধ, ছায়া হয়ে, ফল হয়ে অর্থের অর্থবহতা তৈরি হলো। মুক্তির পথে এগিয়ে চলা বাংলার জন্য এও তো এক মুক্ত বাতাস।

প্রাণের এই তীব্র উচ্ছ্বাস, ভাষার এই কাব্যময়তা, সমীকরণে মেলানো হিসাব, চেতনা কিংবা লড়াইয়ের সেনানীদের আত্মমর্যদার প্রশ্ন। সব আড়াল হয়ে যাবে একদিন। থাকবে, এই সেতু। থাকবে, দিনরাত বদলানোর সনদ হয়ে কংক্রিটের এই স্বপ্ন সংযোগ।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন