জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর) :
যশোরের কেশবপুরে মাদকের ব্যবসা ও সেবন যেনো থামছে না। পুলিশি অভিযান চললেও এরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে। নেশার টাকা যোগাতে ছিচকে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়ায় অভিভাবক মহল শংকিত।
কেশবপুর শহর কেন্দ্রীক এলাকাসহ ১১টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে এর ভয়াবহতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উঠতি বয়সী যুবক, শিক্ষার্থীসহ কিশোর গ্যাং বাহিনী জড়িয়ে পড়ছে মাদকের সঙ্গে। এর মধ্যে উপজেলার মজিদপুর, বাগদা, দেউলি, প্রতাপপুর, শ্রীফলা, মঙ্গলকোট, চুয়াডাঙ্গা, কর্ন্দপপুর, আলতাপোল, হাসানপুর, টিটাবাজিতপুর, বুড়িহাটি, চিংড়া, সাগরদাঁড়ি, পাঁজিয়া বাজার, বাউশলা, ফতেপুর, আলতাপোল, সন্যাসগাছা ব্রীজেরমাথা ,গৃধরনগর ও পৌর এলাকায় প্রতিনিয়ত স্থানীয় ও বহিরাগত যুবকেরা এসে মাদক ব্যবসাসহ সেবন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে কেশবপুর থানা, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব অভিযান পরিচালনা করে মাদক উদ্ধারসহ জড়িতদের গ্রেফতার করলেও থামছে না মাদকের ছোবল।
শুধু চলতি বছরের মে মাস ও ৮ জুন পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন মাদক বিক্রির সম্ভাব্য স্থানগুলোতে হানা দিয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের সদস্যরা মাদকদ্রব্যসহ ৬ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ও গাঁজা। পুলিশ বলছে কেশবপুরে মাদকের সঙ্গে যুক্ত হলে কোন ব্যক্তিই ছাড় পাবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানা পুলিশ গত গত ৮ মে উপজেলার দেউলি গ্রামের বিমল দাসের ছেলে পলাশ দাস (২৬) ও বিষ্ণুপদ দাসের ছেলেকে (২১) ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ৩। গত ৩১ মে উপজেলার আলতাপোল মীরপাড়া এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে ইজাজুল ইসলামকে (৩৫) ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ১৫। গত ৬ জুন উপজেলার গৃধরনগর গ্রামের মৃত সাজ্জাত আলী গাজীর ছেলে মমিন উদ্দিনকে (৫২) ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ৪। গত ৭ জুন উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আবদুল গফফার শেখের ছেলে আক্তারুজ্জামানকে (৩২) ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ৫। একই দিনে উপজেলার বাউশলা গ্রামের নফর আলী মোড়লের ছেলে শাহিনুর রহমানকে (২৫) ১২২ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬ সাতক্ষীরা। যার মামলা নং- ৬।
কেশবপুর পৌর শহরের রাসেল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলার মধ্যকুল এলাকায় এক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স¤প্রতি এলাকায় মাদকদ্রব্য বিকিকিনি বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহল বিষ্ময় প্রকাশ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবক বলেন, কেশবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলাতলা মোড় ও ৬ নম্বর কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মূলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনের বাগানে, মজিদপুর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রুহুল আমীনের দোকানে, দোরমুটিয়া রশিদ মোড়ে আবদুস সামাদ মোড়লের চায়ের দোকানে, বাগদা গ্রামের রহিম সরদারের বাঁশ বাগানে , শহরের মাছ বাজারে, ট্রাক টার্মিনাল, মধ্যকুল তেল পাম্প, বাগদা মিলের পাড়নে, দেউলি মোড়ে ,পাঁজয়া বাজারের বাগডাঙ্গা মোড়, বাংলা লিংক গলি, নাথ পাড়া সংযোগ সড়ক, সন্ধ্যার পর স্থানীয় এবং বহিরাগতদের নিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের আড্ডা জমে ওঠে।
মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর পলাশ বলেন, হঠাৎ করে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সী যুবক। প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীসহ যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে বটগাছ তলায়, বসুন্তিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার দিকে মাদক বিক্রেতা এবং সেবনকারীদের আনাগোনা দেখা যায়।
উপজেলা নাগরিক সমাজের আহব্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, মাদকে ভাসছে কেশবপুর। এখনই যদি এদের রুখে দেওয়া না যায়, তাহলে যুবক ও শিক্ষার্থীসহ কিশোর গ্যাং বাহিনী ধ্বংস হয়ে যাবে। কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ব্যাপক হারে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উদ্দীন বলেন, গত মে মাস ও ৮ জুন পর্যন্ত ৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই। কেশবপুরে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
