বাণিজ্য ডেস্ক :
করোনা-পরবর্তী মূল্যস্ফীতি ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। যার ধাক্কা লেগেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রেস্তোরাঁ ও স্ট্রিটফুডের দোকানেও। খাবারের দাম ও গ্রাহক সন্তুষ্টির মধ্যে সমন্বয় করতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বেইজিংয়ের প্রাণকেন্দ্রে মাং হংয়ের স্পাইসি হটপট রেস্তোরাঁ। তার রেস্তোরাঁটির লাভ ৫ ভাগের এক ভাগে নেমেছে। গরুর মাংসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য উপকরণের দামও বেড়েছে। তবে গ্রাহক ধরে রাখতে তাকে আগের দামেই খাবার বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায় টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মাং হংয়ের মতো বেইজিংয়ের অন্য রেস্টুরেন্টগুলোর অবস্থাও প্রায় একই।
শুধু বেইজিংই নয়; সিউল, জাকার্তা, টোকিও কিংবা করাচি–এশিয়ার সবখানেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে। করোনা মহামারি ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে পণ্যের দাম বাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা।
পণ্যের দাম বাড়ায় করাচির মোহাম্মদ ইলিয়াসের বিরিয়ানি দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৫ বছরের পেশাগত জীবনে এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেননি তিনি। তার মতে, চাল, মাংস, মসলার দাম এত বেড়েছে যে, গরিবের পক্ষে বিরিয়ানি খাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দাম বাড়িয়ে কিংবা নিম্নমানের জিনিস দিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেয়ে খাবারের পরিমাণ কমাতে বাধ্য হয়েছেন জাকার্তার নাসি গোরেং বিক্রেতা সিয়ারুল জয়নুল্লাহ।
দক্ষিণ কোরিয়ার ৬৭ বছরের কিমচি বিক্রেতা চোই সুন হা আগে যে টাকায় ১০টি বাঁধাকপি কিনতে পারতেন, এখন তাকে সেই টাকায় ৭টি বাঁধাকপি কিনতে হচ্ছে।
তাইপের রামেনের দোকানে খেতে আসা ২৪ বছরের চাকরিজীবী স্টিভেন চ্যাং-কে বাইরের খাবারই বেশি খেতে হয়। তবে খাবারের দাম বাড়ায় রেস্টুরেন্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আটা থেকে শুরু করে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় উদোন নুডলসের দাম ৫০ ইয়েন বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন টোকিওর সানোকি উদোনের মালিক ইউসুকা ইয়াই। তার মতে, খাবারের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বেদনার হলেও বাধ্য হয়েই তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
