হোম জাতীয় বৈদেশিক ঋণে চীনের অবদান ৮ শতাংশ, ঝুঁকিমুক্ত বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক :

স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ৭২ বিলিয়ন আর পাইপলাইনে রয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কঠিন শর্তে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া ও প্রকল্পে দুর্নীতিসহ নানা কারণে সম্প্রতি ভেঙে পড়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে জনরোষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের আশঙ্কা, বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে। তবে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (ইআরডি) সংশ্লিষ্টরা এ আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, যে কোনো প্রকল্পের আউটকাম তথা রিটার্নের বিষয়টি মাথায় রেখেই সহজ শর্তে ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৬১ শতাংশেরও বেশি, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, কোনো একটি দেশের বৈদেশিক ঋণ-জিডিপি অনুপাতের ২০ শতাংশকে আদর্শ ধরা হয়। সেদিক থেকে জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান ঋণ ১৬ শতাংশ। ঋণের এ অনুপাতই বলছে, শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক বেশি দৃঢ় ও স্থিতিশীল। তবে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে ৯ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই মোট ঋণের মধ্যে চীনের অবদান মাত্র ৮ শতাংশ। সেটিও আবার স্বল্প সুদে (২ শতাংশের কম সুদে) চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ। এ কারণে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দাবি, বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে- এটা ভুল ও কল্পনাপ্রসূত ধারণা।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব (বৈদেশিক সাহায্য বাজেট ও হিসাব শাখা) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা বাংলাদেশের হবে না। কারণ, বাংলাদেশ সবসময় স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে। নানা উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, ফলে আউটকাম অনেক বেশি হবে।

শ্রীলঙ্কার এ নাজুক অর্থনীতির কারণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিঋণ বেশি। ব্যক্তিঋণে একদিকে যেমন সুদহার বেশি অন্যদিকে স্বল্প সময়ে পরিশোধ করতে হয়। শ্রীলঙ্কা মূলত পর্যটননির্ভর একটি দেশ। করোনায় সবকিছু থমকে যাওয়াই বর্তমান অবস্থার মূল কারণ। তবে আমাদের কোনো ব্যক্তিঋণ নেই। সব ঋণ সরকার নিয়ে থাকে স্বল্প সুদে।

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের নেওয়া ঋণের সবই ইআরডির মাধ্যমে চুক্তিতে। ইআরডি সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, যা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ। এরপরই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অবদান ২৩ শতাংশ। এছাড়া মোট ঋণের ১৮ শতাংশ জাপানের, ১ শতাংশ দক্ষিণ কোরিয়ার, আইডিবির ১ শতাংশ, আইএফএডির ১ শতাংশ এবং ঋণের ১২ শতাংশ অবদান অন্যান্য দেশের।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন