হোম খেলাধুলা পরপর দুই উইকেট হারাল বাংলাদেশ

খেলাধূলা ডেস্ক :

সাদমান ইসলাম আউট হওয়ার পর মাহমুদুল হাসান জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে অর্ধশত রানের জুটি গড়েছিলেন। কিন্তু ৮০ রানে বিদায় নেন শান্ত। স্কোর বোর্ডে আর রান যোগ না হতে হতে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুমিনুল হকও।

দলীয় ২৫ রানে আউট হয়েছিলেন সাদমান। তাকে সরাসরি আউট করেছেন সিমন হারমার। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৯ রান করেন তিনি। সাদমান আউট হওয়ার পর বাংলাদেশকে টানছিলেন জয় ও শান্ত। শুরুতে শান্ত ওয়ানডে স্টাইলে খেলতে থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে তত টেস্ট মেজাজি হচ্ছিলেন তিনি। ৮৭ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে তার নামের পাশে যখন ৩৮ রান, তখন শান্তকে শিকারে পরিণত করেন হারমার।

ক্রিজে এসে ৮ বল খেলেছিলেন মুমিনুল। কোনো রানই তুলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশ ক্যাপ্টেনকে কিগান পিটারসেনের ক্যাচ বানান সেই হারমারই। ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ৮৩ রান। ১১১ বলে ৩ চারে জয় করেছেন ৩৫। এক রানে ব্যাট করছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে ২৮৪ রানে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৬৭ রান করে স্বাগতিক দল। ডারবানের কিংসমেডে ৪ উইকেটে ২৩৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল তারা। দিনের শুরুতেই টাইগার পেসার খালেদ আহমেদ জোড়া আঘাত হানেন প্রোটিয়া শিবিরে। পরপর দুই বলে তিনি ফেরান কাইল ভেরাইন্নে ও ভিয়ান মুল্ডারকে। ৮৩তম ওভারে বল করতে এসে ওভারের দ্বিতীয় বলেই ভেরাইন্নেকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন খালেদ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেটকিপার ব্যাটার। ৮১ বলে ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

ভেরাইন্নে ফিরে গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আশা দেখাচ্ছিলেন টেম্বা বাভুমা। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তেও চলে গিয়েছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ তাকে শত রান করতে দেননি। সেঞ্চুরি পূর্ণ হতে তার দরকার ছিল আর মাত্র ৭ রান। তখনই মিরাজ সরাসরি বোল্ড করে বাভুমাকে। ১৯০ বলে ১২ চারে ৯৩ রান করে ফিরে যান তিনি। এ নিয়ে এ ম্যাচে তিনটি উইকেটে অবদান মিরাজের। এর আগে সারিল এরউইকে বোল্ড করার পর কিগান পিটারসেনকে দুর্দান্ত থ্রোয়ে রানআউট করেন তিনি।

বাভুমা আউট হওয়ার পর কেশভ মহারাজকে তুলে নেন এবাদত হোসেন। মহারাজ করেন ১৯ রান। এরপর সিমন হারমার ও লিজাড উইলিয়ামস খেলতে আসেন। বিরতির আগে সিমন ৮ ও লিজাড ৬ রান করেন। ৮ উইকেটে স্কোর বোর্ডে ৩১৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যান তারা।

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফেরার পর লিজাড উইলিয়ামস নামের পাশে যোগ করেন আরও ৬ রান। এরপর খালেদ আহমেদের দুর্দান্ত এক বলে থার্ডম্যানের দিকে ক্যাচ তুলে দেন বাঁ হাতি এই ব্যাটার। ওই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ও নেন চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচ, সাজঘরে লিজাড। এ ম্যাচে খালেদ আহমেদের এটি চতুর্থ শিকার। আগের দিন তিনি নিয়েছিলেন ডিন এলগারের উইকেট। শেষ দিকে হারমার ও অলিভিয়ের প্রোটিয়াদের ইনিংস বড় করার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখেন। দশম ব্যাটার হিসেবে ১২ রান করে আউট হন অলিভিয়ের। সিমন অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে খালেদ ছাড়াও মিরাজ ৩টি ও এবাদত ২টি উইকেট শিকার করেন।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন