নিজস্ব প্রতিনিধি:
নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর হুমকির মুখে এবং গ্রেফতার আতংকে মাঠে নামতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরার বৈকারি ইউপির মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা তাকে নির্বাচনী প্রচার ময়দানে এলে হাত পা ভেঙে গুঁড়ো করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তার সমর্থকরা বলেছেন, নৌকা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দেওয়া চলবে না। তারা বৈকারি বাজারে মোস্তফা কামালের সমর্থক দোকানীদের দোকান ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।
মোস্তফা কামাল এসব অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সমর্থক পরিবারের শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। তারা বাজারঘাটেও উঠতে পারছেন না।’
তিনি জানান, গত ২৭ অক্টোবর আমার প্রচার অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলের দুই ছেলেসহ তাদের সমর্থকরা। এতে উভয়পক্ষে কয়েকজন আহত হয়। এই ঘটনাকে পুঁজি করে আসাদুজ্জামান অসলে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা করে আমাকে প্রধান আসামি করেছেন। এর ফলে পুলিশ রাতদিন আমাকে খুঁজছে।
তিনি বলেন, গভীর রাতে পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। গ্রামের ও শহরের দুই বাড়িতেই পুলিশ হানা দিয়েছে। আমি খুলনার ডিআইজির সাথে সাক্ষাত করে আমার নিরাপত্তা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছি।
তবে নৌকা প্রতীকের আসাদুজ্জামান অসলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন আমি বর্তমানে চেয়ারম্যান আছি। আমিও চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে না হয় তাকে বেছে নেবে।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বৈকারী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু মো. মোস্তফা কামালের র্যালিতে হামলা, মারপিট, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আবু মো. মোস্তফা কামালের ভাই আফতাবুজ্জামান বাদী হয়ে রোববার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলে ও তার দুই ছেলেসহ ৩০ জন ও অছিয়াতনামায় ২২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. হুমায়ুন কবীর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আগামী ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনকে ঘিরে গত ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান অসলে নৌকা প্রতীক ও জেলা তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মো. মোস্তফা কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক পান। সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রতীক পাওয়ার পর র্যালি করে বৈকারীতে ফেরার সময় বিকেল ৫টার দিকে কেয়ারপাড়া বটতলা নামক স্থানে নৌকা প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলে ও তার ছেলে ইনজামুল হক ইমজা ও জহির রহমানের নেতৃত্বে ৫২ জন হাতে লোহার রড, জিআই পাইপ, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আবু মো. মোস্তফা কামাল, আব্দুর রহমানসহ ১০-১২ জন জখম হন। ভাঙচুর করা হয় ২০টি মোটরসাইকেল। কেড়ে নেওয়া হয় নগদ টাকা ও মোবাইল। আহত কর্মী সমর্থকদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী এড. জিয়াউর রহমান জিয়া মামলা ও আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
