হোম জাতীয় পাঁচ মাস পর শিমুলিয়ায় স্পিডবোট চলাচল শুরু

জাতীয় ডেস্ক :

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর আবারো শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি রুটে শুরু হয়েছে স্পিডবোট চলাচল। এ খবরে ঘাট ব্যবহারকারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে শতাধিক স্পিডবোট চলবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ)।

এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ বলেছে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়েছে। ১০১ টি স্পিডবোট দিয়ে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি পথে আবার চালু হয়েছে স্পিডবোট সার্ভিস।তাই আবারও সরব হয়ে উঠতে শুরু করেছে স্পিডবোট ঘাট। প্রায় পাঁচ মাস পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি রুটে বৈধ প্রক্রিয়ায় চলবে এ স্পিডবোটগুলো। এজন্য ইঞ্জিন চালু করে মহড়া চলছে।

স্পিডবোট চালুর খবরে দারুণ খুশি ঘাট ব্যবহারকারীরা। তারা বলেন, লঞ্চ এবং ফেরিতে ১ ঘন্টার বেশি সময় ব্যয় হয়। কিন্তু স্পিডবোটে ১০-১৫ মিনিটেই আমরা যেতে পারি। স্পিডবোট ব্যবহার করে আমরা বেশ তাড়াতাড়ি যেতে পারবো তাই আমরা আনন্দিত। নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলেই খুশি। শরীয়তপুরগামী যাত্রী স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি চাকরিজীবী মানুষ। অল্প সময়ে কর্মস্থলে যেতে স্পিডবোটে যাতায়াত করে থাকি।

দুর্ঘটনা রোধে দোয়া মাহফিল শেষে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে প্রথম স্পিডবোটটি শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে যায়। চালক মো. রাব্বি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে অত্যন্ত খুশি। তিনি জানান, প্রায় ৫ মাস বেকার ছিলাম। অন্য কাজ জানা না থাকায় এতদিন কিছু করতে পারিনি।

চালক আল আমিন জানান, তার নিজস্ব ৪০ সিসির স্পিডবোট। এটিও বৈধ কাগজ পেয়েছে। তার স্পিডবোটের নাস্বার ৭১। স্বাধীনতার স্মারক চমৎকার নাম্বারটি পেয়ে তিনি আরও খুশি। লাইসেন্স পাওয়া আরেক চালক বিল্লাল ঢালী স্পিডবোট চালুর খুশিতে খাচায় বন্দি করা কবুতর ঘাটে এনে মুক্ত করে দেন।

শিমুলিয়ার স্পিডবোট ঘাটের ইজারাদার সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় তিনি এক বছরের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে ঘাট ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু প্রায় অর্ধেক বছর বোট বন্ধ থাকায় বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তবে স্পিডবোট চালু হওয়ায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করবেন। তবে বন্ধ ছয় মাস বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপ পরিচালক ওবায়দুল করিম খান জানান, পাঁচ ধরণের স্পিডবোটকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০, ৭৫, ৮৫, ১১৫, ১৫০ ও ২০০ সিসি ইঞ্জিনের স্পিডবোট চলাচল করতে পারবে। তবে এসব স্পিডবোট রাতে চলতে পারবে না। শুধুমাত্র দিনে বেলায় সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। এর আগে অবৈধভাবে প্রতিটি স্পিডবোট ৩২ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করত। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হত।

সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় হলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বলে জানান নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের পরিদর্শক জহিরুল কাইয়ুম।

এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, এ পর্যন্ত ১০১টি স্পিডবোট রুট পারমিট ও টাইমটেবিল পেয়েছে। এর মধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের ৫৩টি, মাঝিরকান্দি ঘাটের ১৯টি এবং বাংলাবাজার ঘাট এলাকার মালিকানাধীন ২৯টি স্পিডবোট বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) এই ১০১টি স্পিডবোট শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ঘাটে চলাচল শুরু করেছে। অনিবন্ধিত স্পিডবোট নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা সনদ ও রুট পারমিট প্রক্রিয়ার পর স্পিডবোট সচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এই বৈধ প্রক্রিয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় ছাড়াও জনসাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চালকরা সনদপত্র গ্রহণ করেছেন। আর মাদকাসক্ত কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, ডোপ টেষ্টে ৯ জন চালক মাদকাসক্ত প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ছোট-মাঝারি-বড় ৪০ সিসি থেকে ২০০ সিসি পাওয়ারের পাঁচ রকমের স্পিডবোট থাকলেও সকল স্পিডবোটই এখন ১২ জন করে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক। স্পিডবোটগুলো চলবে শুধুমাত্র দিনের বেলায়।

বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ. সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে স্পিডবোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ১৪৫টির আবেদন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে কাগজপত্র ঠিক থাকায় নিবন্ধন পেয়েছে ১২৬টি। পাশাপাশি ১২০ জন চালক যোগ্যতা সনদ পেয়েছে। বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ. এসব স্পিডবোটকে বৈধতা দিতে চালকদের প্রশিক্ষণসহ সার্ভে সদন (স্পিডবোটের ফিটনেস) ও রুট পারমিট প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ মে সকালে মাদারীপুরের নাওডোবায় নোঙ্গর করা একটি জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটের ২৬ যাত্রী নিহত হন। এরপর থেকেই পদ্মা পারাপারে স্পিডবোট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০১ সাল থেকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পদ্মা পারাপারে স্পিডবোট চলাচল করছিল। এই প্রথমবারের মত নদীতে দ্রুতগতির এই যানটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হলো।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন