হোম অন্যান্যসারাদেশ কেশবপুরে ধানের মূল্য বৃদ্ধিতে লক্ষ্যমাত্রার বেশী জমিতে বোরো আবাদ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের কেশবপুরে অধিকাংশ মাঠের ধানের শীষ বের হচ্ছে। আর কদিন পর এধান উঠবে কৃষকের ঘরে। শেষ মুহূর্তে কৃষক ইসমাইল হোসেন ধান ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্থ সময় পার করছেন। শুধু ইসমাইল হোসেন নয়, এ উপজেলার সর্বত্র চলছে কৃষকের এ ব্যস্থ সময়। অপরদিকে, ধানের মূল্য বৃদ্ধিতে এবছর সবজি আবাদ কমিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেযে ২ হাজার ৪‘শ হেক্টর বেশী জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রায় সকল ঘের বোরো আবাদের আওতায় এসেছে। সার, বীজ ও কীটনাশক কৃষকের অনুকুলে থাকায় চলতি বছর বোরোর বাম্পার ফলন আশা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১৫ হাজার ৪‘শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সবজি আবাদ কমিয়ে দিয়ে বোরো চাষে ঝুঁকে পড়ে। গত বছর যেসব বিলের ঘেরে জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ হয়নি চলতি বছর সেসব বিলের পানি নিষ্কাশন সম্ভব হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার ছাপিয়ে ২ হাজার ৪‘শ হেক্টর বেশী জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ক্ষেতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে জমি তার উর্বররা শক্তি হারাচ্ছে। এছাড়া, অধিকাংশ কৃষক জমিতে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। এক্ষেত্রে জমি শুকিয়ে দিতে হবে। ঘেরে অতিমাত্রায় ফসফেট ও ইউরিয়া ব্যবহারের কারণে জমি ঊর্বররা শক্তি হারিয়ে ধান বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সময় মত কৃষকদের পরামর্শ দেয়ায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মজিদপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, ধানের মূল্য বৃদ্ধির কারণে তার এলাকার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে সবজির আবাদ কমিয়ে দিয়ে ধানের আবাদ করা হয়েছে। তাদের বিনাকুড়, বেজিরকুড় বিলসহ আশপাশের অধিকাংশ মাঠে ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তিনি ২ বিঘা জমিতে হাইব্রিড মাহিকো-৩ জাতের ধার রোপণ করেছেন। বিঘাপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মন ধান পাবেন বলে তিনি আশাবাদি। খতিয়াখালি গ্রামের কৃষক জয়দেব দাস জানান, তাদের গরালিয়া বিলে জলাবদ্ধতার কারণে ৭/৮ বছর বোরো আবাদ হয়নি। এবার বিলের পানি নিষ্কাশন সম্ভব হওয়ায় বোরো ধান আবাদ করে বাম্পার ফলন আশা করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কেশবপুরে ৪ হাজার ৬‘শ ৫৮টি মাছের ঘেরে ৭ হাজার ৪‘শ ৪৯ হেক্টর জমি রয়েছে। পানি নিষ্কাশন সম্ভব হওয়ায় অধিকাংশ ঘেরে বোরো আবাদ হয়েছে। ধান কাটার মুহূর্তে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বোরোর বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন