মোল্লাহাট(বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
বাগেরহাটে মোল্লাহাটে গত ২৭মার্চ বিদ্যুৎ এর তার ছিড়ে বরজে আগুন ধরলে সে আগুনে দগ্ধ হয়ে দুই সহোদর এর করুন মৃত্যু হয় । এক ভাই ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মারা যায়, আর এক ভাই পরের দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। এঘটনায় মোল্লাহাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়, যাহার নং-০৬, তারিখ-২৭/৩/২০২১ইং। এদিকে উক্ত দুর্ঘটনায় এলাকাবাসি এখন দায়ী করছে প্রতিবেশি হরিদাস রানা ও তার ভাতিজা সুজন রানাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উক্ত এলাকাবাসীর মুখে এখন সত্য ঘটনাটি বলতে শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্বস্থসূত্র থেকে জানাগেছে ঘটনার দিন প্রতিবেশী হরিদাস রানা ও তার ভাতিজা সুজন রানা বিদ্যুৎ বিভাগকে না জানিয়ে বাড়ির উঠান থেকে খুব লম্বাধরনের একটি সুপারীগাছ কাটছিলো। তখন হরিদাস রানার ভাতিজি শুক্লা তাদেরেকে বলে যে, কাকা তুমি গাছটিতে দড়িবেধে কাটো, তা নাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কদিন আগে তুমি একবার বিদ্যুৎ অফিসে ১০হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছো। তার প্রতিবেশী বান্ধবী লাবনী বিশ্বাস তখন সাথে ছিলো, একথা বললে হরিদাস তার ভাতিজিকে ধমকদেয়, তারা তখন বাড়ির সামনে রাস্তায় যেতেই সুপারীগাছটি উঠানের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইনতারের উপর আছড়ে পড়ে। মেইন তারে তখন টান লেগে দুলাল বিশ্বাসের পানের বরজের উপরে থাকা মেইন তার ছিড়ে বরজের উপর পড়ে বরজের জিআই তারে ঘর্ষন লেগে আগুন ধরে যায় এবং বরজের উপর/নিচেসহ চারিপাশে থাকা জিআই তার বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এসময় বরজের মধ্যে কাজে নিমগ্ন দুলাল যখন বিদ্যুতের আগুনে পুড়তে থাকে, হরিদাস রানা তখনকোন ডাক চিৎকার নাকরে তার সুপারী গাছ লুকাতে ব্যস্ত থাকে। একপর্যায় দুলালের আত্মচিৎকার তার ছোটভাই জুড়ান বিশ্বাসের কানে গেলে সে তার ভাইকে রক্ষা করতে বরজের মধ্যে দ্রæত প্রবেশ করে, কিন্তু ততক্ষন সমস্ত বরজের তার বিদ্যুতায়িত হয়ে গেছে, তা না বুঝে ভাইকে বাচাঁতে যেয়ে সেও বরজের বিদ্যুতায়িত জিআই তারে জড়িয়ে যায় এবং বরজের শুকনা পাতার আগুনে পুড়ে যায়। পরবর্তিতে মুমূর্ষ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে খুলনা থেকে ঢাকা পাঠালেও তাকে বাচাঁনো যায়নী। এঘটনায় যখন পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্যদিকে সুপারীগাছ কাটার ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। তাদের পরামর্শমত সুপারীগাছের গোড়ার অংশ মাটি দিয়ে লেপে দেয় যাতে কোন চিহ্ন না থাকে এবং লম্বা সুপারী গাছটি দুখন্ড করে বাড়ি থেকে প্রায় অর্ধকিলোমিটার দূরের মৎস্যঘেরের ধানক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখে, যা পরের দিন আটজুড়ী ইউপি’র নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিয়া, প্রদিবেদক ও স্থানীয় অনেক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সুভাষরানার স্বিকাররোক্তিতে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কিছুতেই এতবড় দূর্ঘটনার নেপথ্য ঘটনাটি পর্দার সামনে আসলোনা। হরিদাস রানাকে ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলোনা। ধামাচাপাই রয়ে গেলো সত্যঘটনাটি। বিদ্যুতের মেইন তারগুলো বিপদজনক ভাবে ঘনবসতির উপর দিয়ে রয়েই গেলো! তাহলে কি আবার কোন ভয়ংকর দুর্ঘটনার প্রহরগুনতে হবে উত্তর আমবাড়িবাসীর, নাকি ঝুকিপূর্ণ বিদ্যুৎ তার অপসারিত হবে। এ জিগ্যাসা উক্ত এলাকাবাসীর এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের।
