হোম জাতীয় জেন-জির গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতন, কিন্তু নির্বাচনে ফিরছে পুরোনো রাজনীতি

জেন-জির গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতন, কিন্তু নির্বাচনে ফিরছে পুরোনো রাজনীতি

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 47 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে রয়েছে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা। তবে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে লাখো তরুণ রাজপথে নেমেছিল, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর হতাশা।

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ দ্রুত রূপ নেয় দেশব্যাপী গণআন্দোলনে। সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনাবাহিনী গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরই স্পষ্ট হয়ে যায়—শেখ হাসিনার শাসনের অবসান আসন্ন। আগস্টে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়লে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান।

গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, কারণ বাংলাদেশ তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে।

হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এতে লাভবান হয়েছে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনিই এখন নির্বাচনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।

একই সঙ্গে পুনরুত্থান ঘটছে জামায়াতে ইসলামীর, যা শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দলটি এবারের নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি।

গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাওমি হোসেন বলেন, “সহিংস রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদীয় অবস্থান অনেক সময় নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে কাজ করে।” তবে এই জোটকে আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন অনেক তরুণ।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নাজিফা জান্নাত বলেন, “এনসিপি সংস্কার আর অন্তর্ভুক্তির কথা বলেছিল। কিন্তু নারীবিরোধী অবস্থান নেওয়া দলের সঙ্গে জোট আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”

আরেক আন্দোলনকারী সাদমান মুজতবা রাফিদের ভাষায়, “আমরা এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি নির্বিশেষে সবার সমান সুযোগ থাকবে। বাস্তবতা এখন সেই স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে।”

সব অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, অনেকেই এটিকে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে দেখছেন। ঢাকার রাজপথে বিরাজ করছে কৌতূহল আর প্রত্যাশা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া মির্জা শাকিল বলেন, “এই নির্বাচন নতুন কিছু আনতে পারে। আমরা আশাবাদী।”

সূত্র: সিএনএন

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন