হোম অর্থ ও বাণিজ্য অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 18 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
শ্রমিক ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়, যা বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কর্মবিরতির ফলে বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এই অবস্থায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। সরকার চুক্তি বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনের পঞ্চম দিনে বুধবার সকাল থেকে বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড ছিল জনশূন্য। মানুষ ও যানবাহনের কোনো চলাচল দেখা যায়নি, বন্ধ ছিল সব শেড ও অফিস।

সকালে জোয়ারের সময় বন্দরের ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা থাকলেও এবং বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সূচি থাকলেও বাস্তবে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি।

বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট ও ফিডার অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে পাইলটেজ কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনকারীদের বাধায় তা ব্যর্থ হয়। বুধবার সকালে আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত জেটিতে অবস্থান নিয়ে টাগবোট, পাইলট বোট ও মুরিং বোটসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস নৌযানের নোঙর আটকে দেন। ফলে পাইলটেজ কার্যক্রম একেবারেই শুরু করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা থেকে জোয়ার শুরু হলেও জাহাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত সব পাইলট কন্ট্রোল রুমে প্রস্তুত ছিলেন। তবে আন্দোলনের কারণে তারা কাজে নামতে পারেননি।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন শিকদার বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর মধ্যে আমদানি, রপ্তানি ও খালি কন্টেইনার পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বন্দর ইয়ার্ডের ডেলিভারি পয়েন্টগুলোও ছিল ফাঁকা। কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। আমদানি পণ্য ছাড় ও রপ্তানি চালান বন্ধ থাকায় বন্দর ইয়ার্ড এবং আইসিডিগুলোতে কন্টেইনারের জট দিন দিন বাড়ছে।

বার্থ অপারেটরস, শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, এভাবে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ার ঘটনা নজিরবিহীন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন